Mohan Yadav

মহাকাল করিডরে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের হাতে বিপুল জমি

মোদী সরকার ২০২৩ সালে মহাকালেশ্বর মন্দিরকে কেন্দ্র করে উজ্জয়িনী মাস্টার প্ল্যান ঘোষণা করে। অভিযোগ এমন ঘোষণার আঁচ করেই উজ্জয়নীতে প্রায় ১০৮টি জমি (আয়তনে ১৭৯ একর) কেনে মোহন-পরিবার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০৭:৩২
Share:

মোহন যাদব। — ফাইল চিত্র।

রামমন্দিরে তহবিলের টাকা তছরূপের পরে এ বার মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে মহাকালেশ্বর করিডরকে কেন্দ্র করে বড় মাপের জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠল। ওই দুর্নীতিতে অভিযোগের আঙুল উঠেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বিরুদ্ধে। প্রথমে শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন ও পরে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উজ্জয়িনীতে ঘোষিত করিডর সংলগ্ন এলাকায় মোহনের পরিবারের লোকেরা একরের পর একর জমি কিনেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। দলের ব্যাখ্যা, এটাই বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের লুঠ! কংগ্রেসের অভিযোগ নিয়ে বিজেপি এখনও নীরব। বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, মোহনকে সরাতেই তাঁর জমি সংক্রান্ত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। অনেকের মতে, এর পিছনে সম্ভবত কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী তথা মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের হাত রয়েছে।

মোদী সরকার ২০২৩ সালে মহাকালেশ্বর মন্দিরকে কেন্দ্র করে উজ্জয়িনী মাস্টার প্ল্যান ঘোষণা করে। অভিযোগ এমন ঘোষণার আঁচ করেই উজ্জয়নীতে প্রায় ১০৮টি জমি (আয়তনে ১৭৯ একর) কেনে মোহন-পরিবার। জমি কেনা হয়েছিল মোহনের ছেলে বৈভব ও বোন কলাবতীর নামে। এর মধ্যে ২০২১-’২৩ সালে মোহন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন কেনা হয়েছিল ৮৫টি প্লট।

মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা ভোটে বিজেপি জেতার পরে শিবরাজের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী হন মোহন। তার পর থেকে গত আড়াই বছরে উজ্জয়নীতে করিডর এলাকায় ১৩৭টি জমি কেনা হয় মোহনের ছেলে, পুত্রবধূ, ভাই, মোহনের তুতো ভাই ও মোহনদের নামে থাকা আবাসন সংস্থার নামে। মোহন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে করিডর সংলগ্ন ১৬৮ একর জমি কেনে তাঁর পরিবার! মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারির অভিযোগ, মোহন ক্ষমতায় বসেই যে সব এলাকায় পরিবারের জমি রয়েছে, সেখানে একাধিক নতুন রাস্তা, রাজ্য সড়ক গড়ার ঘোষণা করেন। ফলে ওই সব এলাকায় জমির দাম লাফিয়ে বাড়ে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ওই সব এলাকার কৃষি জমির চরিত্রও বদলানো হয়, যাতে সেগুলিতে আবাসন নির্মাণ বা বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যায়।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ‘‘রামমন্দির থেকে মহাকাল করিডর— সব চুরির পিছনে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যে লুটের ইঞ্জিন পূর্ণ গতিতে দৌড়চ্ছে!’’ এসপি নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, ‘‘গোটাটাই বিজেপির চক্রান্ত। বিজেপি মধ্যপ্রদেশ-সহ তিন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাতে চাইছে। তাই মোহনের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছে বিজেপি।’’ রাজনীতিকদের মতে, তাঁকে সরিয়ে মোহনকে মুখ্যমন্ত্রী করা ভাল ভাবে নেননি শিবরাজ। জয়রামের কথায়, ‘‘শোনা যাচ্ছে, কেন্দ্রের এক মন্ত্রী না কি ওই খবরের পিছনে মূল মাথা! দেখে মনে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীরকুর্সি ও লুটের বখরাই যাবতীয় সমস্যার উৎস।’’

শিবরাজ এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমি মধ্যপ্রদেশের নই, গোটা ভারতের মন্ত্রী।’’ বিষয়টি নিয়ে নীরব বিজেপি নেতৃত্ব। দলের একাংশের মতে, শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন মোহনকে এ ভাবে জমি কিনতে ঘরোয়া ভাবে মানা করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ। কিন্তু তা শোনেননি মোহন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন