—প্রতীকী চিত্র।
প্রথমে নোট বাতিল, তার পরে কোভিডের জেরে কাজের বাজারে মহিলাদের অংশগ্রহণ কমে গিয়েছিল। এ বার কেন্দ্রীয় সরকারের সমীক্ষা জানাল, গত তিন বছরে কাজের বাজারে মহিলাদের অংশগ্রহণ ফের বেড়েছে। মূলত গ্রামের মহিলারা রুটিরুজির ব্যবস্থায় আরও বেশি করে অংশ নিচ্ছেন বলেই এই ‘উন্নতি’। যদিও মজুরিতে ফারাক, বিনা মজুরিতে কাজের বোঝা এবং চাষআবাদের উপরে বেশি রকম নির্ভরতার কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।
পরিসংখ্যান মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের কর্মক্ষম মহিলাদের ৩৩.৯ শতাংশ কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। গ্রামের মহিলাদের কাজে অংশগ্রহণ এই সময়কালে ৩৭.৫ শতাংশ থেকে ৪৫.৯ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু এই গ্রামের মহিলাদের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ বা ৭২.৭ শতাংশই চাষআবাদের সঙ্গে যুক্ত।
কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়লেও পুরুষদের সঙ্গে ব্যবধান থেকেই গিয়েছে। ২০২২ সালে কর্মক্ষম পুরুষদের ৭৮ শতাংশ কাজ করছিলেন। ২০২৫ সালে কর্মক্ষম পুরুষদের ৭৯.১ শতাংশ কাজ করছিলেন। যার অর্থ, পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে কাজের বাজারে অংশগ্রহণের হারে বিস্তর ফারাক। মজুরির ক্ষেত্রেও পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে ফারাক যথেষ্ট। গ্রামে একজন পুরুষ শ্রমিক বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ করলে দিনে ৪৩৫ টাকা পান। মহিলারা পান মাত্র ৩০৫ টাকা। প্রায় ৩০ শতাংশের ফারাক।
শহরাঞ্চলে ফারাক আরও বেশি। পুরুষরা পান দিনে ৫৫২ টাকা মজুরি। মহিলারা পান মাত্র ৩৬৩ টাকা। মহিলারা দিনের প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা এমন কাজে নিযুক্ত থাকেন, যেখানে কোনও রোজগার নেই। শহরের ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৮.৯ শতাংশ। তরুণদের ক্ষেত্রে এই বেকারত্বের হার ২০২৫-এ ১১.৮ শতাংশ ছিল। সরকারি রিপোর্ট বলছে, তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের প্রকোপশহরাঞ্চলে প্রবল।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গবেষণা সংস্থা ‘জাস্ট জবস নেটওয়ার্ক’ ও অসরকারি সংস্থা ‘প্রদান’-ও মহিলাদের কাজে অংশগ্রহণ, অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্টও বলছে, শহরের থেকে গ্রামের মহিলাদের কাজে অংশগ্রহণের হার বেশি। কিন্তু অধিকাংশ মহিলাই নিম্ন মানের কাজে যুক্ত। গবেষকরা জানিয়েছেন, গ্রাম থেকে শহরে বা অন্য কোথাও কাজ করতে যাওয়া মেয়েদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা খুবই সাধারণ। পরিবারের অনুমতি সেখানে নির্ণায়ক। মহিলাদের ভাষার সমস্যা, খাবারের সমস্যা, একাকীত্বের সমস্যায় ভুগতে হয়। চাকরি করতে গেলেও কাজের চুক্তি, পদোন্নতি, বেতন কাঠামো নিয়ে সচেতনতার অভাব মেয়েদের পিছিয়ে রাখে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে