অমিত শাহ। — ফাইল চিত্র।
ফের অপশব্দ। ফের কাঠগড়ায় অমিত শাহ।
তিন মাসের মধ্যে ফের এক বার লোকসভার বিতর্কে অপশব্দ বলার অভিযোগ উঠল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে। ফলে লোকসভার বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে কোণঠাসা করেও তার ফায়দা নিতে ব্যর্থ হল গেরুয়া শিবির। কংগ্রেসের কটাক্ষ, অমিত শাহ বলেছেন বলেই সংসদীয় বিবরণী থেকে অপশব্দ ছেঁটেফেলার মতো সাহস দেখাতে পারলেন না স্পিকার।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পক্ষপাতমূলক আচরণের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন বিরোধীরা। গত কালের পরে আজ ফের আলোচনা শুরু হলে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে দফায় দফায় আক্রমণ শানান শাসক দলের সাংসদেরা। বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘‘লোকসভার বিরোধী দলনেতার মন রাখতেই এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে।’’ আর এক সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের কটাক্ষ, ‘‘রাহুল গান্ধীর একটাই লক্ষ্য— কী ভাবে নিয়ম অমান্য করে খবরের শিরোনামে থাকবেন।’’ রাহুলকে এ ভাবে নিশানা বানানো নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপালের কটাক্ষ, ‘‘বোঝা যাচ্ছে না, কার বিপক্ষে অনাস্থা আনা হয়েছে! স্পিকার না লোকসভার বিরোধী দলনেতা?’’
মাস তিনেক আগে শীতকালীন অধিবেশন লোকসভাতে নির্বাচনী সংস্কার বিতর্কে অমিত শাহ বলে ফেলেছিলেন, ‘‘ম্যায় শোচা (অপশব্দ)।’’ যা নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়েছিল। আজও অনাস্থা বিতর্কে সরকারের হয়ে জবাবের দায় ছিল অমিত শাহের উপরে। সংসদে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে রাহুলের অনুপস্থিতির উদাহরণ তুলে ধরে অমিতবলেন, ‘‘২০২৫ সালের শীতকালীন অধিবেশনে জার্মানি, গত বছরের বাজেট অধিবেশনে ভিয়েতনাম, ২০২৩ সালের বাজেট অধিবেশনে ব্রিটেন সফরে ছিলেন রাহুল। প্রশ্ন হল, বিদেশ থেকে সংসদে কী করে বলবেন রাহুল? ভিডিয়ো কনফারেন্স করে বলার তো সুযোগ নেই সংসদে।’’ বিজেপি শিবিরের আক্ষেপ, এই সময়েই ছন্দপতন! বিরোধী দলনেতাকে রীতিমতো চেপে ধরার সময়েই মুখ ফস্কালেন শাহ। অতীতে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীকে আলিঙ্গন করা এবং তার পর নিজের আসনে বসে সতীর্থদের উদ্দেশে চোখ মারার উদাহরণ তুলে বলতে গিয়ে শাহ মুখ ফস্কে বলে ফেলেন, ‘‘আমার তো বলতেও শালা সঙ্কোচ হচ্ছে।’’
অমিত শাহের মুখ থেকে অপশব্দ বার হওয়া মাত্র পাল্টা আক্রমণে নামেন কোণঠাসা বিরোধীরা। শাহকে ক্ষমা চাইতে হবে এই দাবিতে ওয়েলে নেমে এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। মুখ ফস্কে বেরিয়ে যাওয়া অপশব্দ যে খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছে, তা বুঝে দ্রুত বিতর্কে ইতি টানেন শাহ। পরিস্থিতি প্রতিকূল বুঝে তড়িঘড়ি ধ্বনিভোট করিয়ে সরকারের পক্ষে জয় ঘোষণা করে দেন জগদম্বিকাও।
ঘটনা হল, অতীতে শাহ যখন অপশব্দ বলেছিলেন তখন তা নিয়ে রা কাড়েননি স্পিকার ওম বিড়লা। আজও শাহের অপশব্দ নিয়ে নীরব ছিলেন জগদম্বিকা। তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘পাড়ার মস্তানদের মুখের ভাষা কখনও বদলায় না।’’ কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার কটাক্ষ, ‘‘অমিত শাহ সংসদে অপশব্দ বললেও স্পিকার তাঁকে বারণ পর্যন্ত করেন না।’’ কংগ্রেস নেতৃত্ব বলছেন, যদি রাহুল গান্ধী এই অপশব্দ প্রয়োগ করতেন, তা হলে কমিটি বসে যেত এতক্ষণে। আজ অধিবেশন শেষে ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন অমিত শাহ ও সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সূত্রের মতে, তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাওয়ায় আগামিকাল থেকে আগের মতোই স্পিকারের আসনে বসবেন তিনি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে