উদ্ধব ঠাকরে। — ফাইল চিত্র।
উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার সংসদীয় দলে ভাঙনের প্রথম ঘোষণা হয়ে গেল। শিবসেনা (উদ্ধব)-এর ৯ লোকসভা সাংসদের মধ্যে ছ’জন দল ছেড়ে একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা ছিল। তাঁদের মধ্যে দু’জন রবিবার ঘোষণা করে দিলেন, তাঁরা শিবসেনা (উদ্ধব) ছেড়ে একনাথ শিন্দের শিবসেনায় যোগ দিচ্ছেন।
রবিবার প্রথমে নানদেড় জেলার সাংসদ নাগেশ আশিতকর বলেছিলেন, শাসক গোষ্ঠীতে যোগ না দিলে তাঁর এলাকায় উন্নয়নের কাজ এগোচ্ছে না। তাই তিনি উদ্ধবের শিবসেনা ছেড়ে একনাথ শিন্দের শিবসেনায় যোগ দিচ্ছেন। এর পরে শিবসেনা (উদ্ধব)-এর দল ভাঙানোর ‘অপারেশন টাইগার’-এর সাফল্য ওমরাজে নিম্বলকরের সিদ্ধান্তের উপরে এসে আটকে গিয়েছিল। রবিবার রাতে তিনিও শিন্দের শিবসেনায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে ন’জন সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশ বা ছ’জনের দল ছাড়া প্রয়োজন। সোমবার বাকি চার জন ঘোষণা করে দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার বিকেলে একনাথ শিন্দে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনও ‘অপারেশন’ অসম্পূর্ণ রাখেন না।
শনিবারই ওমরাজের বাবা পবনরাজে নিম্বলকরের ২০ বছরের পুরনো খুনের মামলার রায় বেরিয়েছিল। বিশেষ সিবিআই আদালত আট জন অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস দিয়েছে। এই খুনের মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন পদমসিংহ পাটিল। তিনি আবার সুনেত্রা পওয়ারের দাদা। সুনেত্রার এনসিপি একনাথ শিন্দের শিবসেনার মতোই মহারাষ্ট্রে ও কেন্দ্রে বিজেপির শরিক। সুনেত্রা ও শিন্দে দু’জনেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে ওমরাজে নিম্বলকরের সামনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তাঁর পক্ষে কি শিন্দের দলে তথা এনডিএ-তে যোগ দেওয়া সম্ভব, যে এনডিএ-র অন্যতম শরিক সুনেত্রা পওয়ার! কুড়ি বছর আগে পদমসিংহ পাটিল ও পবনরাজে নিম্বলকরের রাজনৈতিক রেষারেষির জেরেই পবনরাজে খুন হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। বাবার মৃত্যুর পরে ওমরাজে রাজনীতিতে আসেন। মরাঠাওয়াড়ার ধারাশিব লোকসভা থেকে সাংসদ হয়েছেন। ওমরাজে জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর সংসদীয় কেন্দ্র ধারাশিবের নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেবেন। সূত্রের খবর, উদ্ধবের তরফ থেকেও ওমরাজেকে দলে রেখে দিয়ে ‘অপারেশন টাইগার’ ব্যর্থ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। উদ্ধবের দলের দুই বিধায়ক কৈলাস পাটিল ও বরুণ সরদেশাই নিম্বলকরের সঙ্গে পুণেতে গিয়ে দেখা করেছিলেন। উদ্ধব-পুত্র আদিত্য ঠাকরে জানিয়েছিলেন, কেউ ফিরে আসতে চাইলে তাঁরা স্বাগত।
সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রবিবার সন্ধ্যায় নিম্বলকর ঘোষণা করেছেন, তিনি শিন্দের নেতৃত্বে শিবসেনায় যোগ দেবেন। একনাথ শিন্দে জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীসের কথা হয়েছে। সিবিআই পবনরাজে নিম্বলকরের খুনের মামলায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করবে। কিন্তু বিজেপি বা শিন্দের দল এনডিএ-র শরিক সুনেত্রার পরিবারকে বিপাকে ফেলতে চাইবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আর এক দলত্যাগী সাংসদ নানদেড় জেলার নাগেশ আশিতকর জানিয়েছেন, তাঁর উদ্ধবের উপরে কোনও ক্ষোভ নেই। মূলত এলাকায় উন্নয়ন তহবিলের অর্থ আসছে না বলেই তিনি সমস্যায় পড়েছেন। তবে শিবসেনা (উদ্ধব)-এর রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় রাউত যে ভাবে বিদ্রোহীদের গালিগালাজ করেছেন, তা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তিনি মতাদর্শ বিসর্জন দিচ্ছেন না। এক শিবসেনা থেকে অন্য শিবসেনায় যাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে উদ্ধব ঠাকরে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি দলত্যাগী সাংসদদের লোকসভা কেন্দ্রে গিয়ে জনসভা করবেন। দল ছাড়তে উদ্যত আর এক সাংসদ সঞ্জয় দিনা পাটিলের কন্যা রাজুল পাটিল রবিবার মুম্বইয়ে ঠাকরে পরিবারের বাসভবন ‘মাতোশ্রী’-তে গিয়ে উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে দেখা করেছেন। রাজুল এখন বৃহন্মুম্বই পুরসভার কাউন্সিলর। যুব শিবসেনার নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, তিনি উদ্ধবের শিবসেনাতেই থাকছেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে