—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ হয়েছে। ভারত-আমেরিকার শুল্ক সংক্রান্ত ঘোষণা করেছেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা। কিন্তু এর ফলে কাশ্মীর উপত্যকার আপেল চাষিরা চাপে পড়ে গিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, চুক্তি কার্যকর হলে কম দামি আপেলে দেশের বাজার ছেয়ে যাবে। তাতে মার খাবে উপত্যকার আপেল-অর্থনীতি। যার সঙ্গে প্রায় সাত লক্ষ পরিবার জড়িয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি চাষের সঙ্গে যুক্ত। বাকিরা রয়েছেন বাগানের কাজ, বাক্সবন্দি করা, পরিবহণ এবং বিক্রিবাটার সঙ্গে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে একটি দাবিপত্র জমা দিয়েছে কাশ্মীর ভ্যালি ফ্রুট গ্রোয়ার্স কাম ডিলার্স ইউনিয়ন। সংগঠনের সভাপতি বশির আহমেদ বশির জানান, আপেলের মরসুমে এমনিতেই বিদেশ থেকে আপেল আসে। বিশেষত ইরান, ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে। সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে তখন তার দাম কমে। তাতে কাশ্মীরের আপেল চাষিদের উপরে চাপ বাড়ে। এ বার আমেরিকা এবং ইউরোপের জন্য ভারতের বাজার পুরোপুরি খুলে গেলে উপত্যকার চাষিদের মাথায় হাত পড়বে। এই অবস্থায় আপেলের আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১০০ শতাংশের বেশি করলে লড়াই করতে পারবেন তাঁরা। বশিরের আরও বক্তব্য, এর আগে যে সমস্ত বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, তাতে দেশের আপেল চাষিদের কোনও লাভ হয়নি। বিদেশে বাজার তৈরি করতে পারেননি তাঁরা। বরং বাইরের আপেল এ দেশে জাঁকিয়ে ব্যবসা করছে। ফলে অনেক দিন ধরেই আর্থিক ভাবে সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন আপেল চাষিরা।
কাশ্মীর উপত্যকার গ্রামীণ অর্থনীতির অনেকটাই আপেল নির্ভর। চাষিদের বক্তব্য, দিন দিন ফলটির উৎপাদন খরচ বাড়ছে। মূলত কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিই এর কারণ। সেই সঙ্গে রয়েছে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা, পোকায় ক্ষতি এবং বর্ধিত পরিবহণ খরচ। এই অবস্থায় বিদেশ থেকে অবাধে আপেল ঢুকতে থাকলে তাঁদের পথে বসতে হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে