—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভারতে রান্নার গ্যাসের জোগান অব্যাহত রাখতে নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়াল ‘দূরের বন্ধু’। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে উপসাগরীয় দেশ থেকে গ্যাস আমদানি কার্যত থমকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সহায় হয়েছে আর্জেন্টিনা। লিয়োনেল মেসি-দিয়োগো মারাদোনার দেশ চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ৫০ হাজার টন এলপিজি পাঠিয়েছে ভারতে। এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত।
২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা থেকে মাত্র ২২ হাজার টন গ্যাস আমদানি করেছিল ভারত। সেখানে এই বছরের প্রথম তিন মাসেই এলপিজি আমদানির পরিমাণ ৩৯ হাজার টন হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার টন ইতিমধ্যেই ভারতে এসে গিয়েছে। ৫ মার্চ ১১ হাজার টন নিয়ে ভারতের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে আর্জেন্টিনার জাহাজ। শীঘ্রই তা ভারতের কোনও বন্দরে ভিড়বে।
জলপথে আর্জেন্টিনার বাহিয়া ব্লাঙ্কা বন্দর থেকে গুজরাতের দাহেজ বন্দরের দূরত্ব প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ভারতে গ্যাসবাহী জাহাজ পৌঁছোতে যথেষ্ট সময় লাগবে। তা ছাড়া এর ফলে পরিবহণ এবং প্রযুক্তি খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ও করতে হবে ভারতের আমদানিকারকদের। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের জোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অন্য উপায়ও নেই নয়াদিল্লির।
ভারতে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো অগস্টিন কওসিনো এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ভারতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাঁরা বৃহত্তর ভূমিকা নিতে প্রস্তুত রয়েছেন। তাঁর কথায়, “আর্জেন্টিনার কাছে যথেষ্ট গ্যাস মজুত রয়েছে। আমাদের দেশের গ্যাস এবং তেল সংস্থার প্রধান গত বছর দু’বার ভারতে এসেছেন। তিনি (পেট্রোলিয়াম) মন্ত্রী হরদীপ পুরী এবং ভারতের তেল সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা বলেছেন। তাই বলাই যায় যে, এই বোঝাপড়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, সোমবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন, অশোধিত তেল এবং গ্যাস নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। তিনি এ-ও জানান যে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারত ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে। ভারতের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত।