অসমকে অন্তর্ভুক্ত করেই আগামী কাল রাজ্যসভায় স্থলসীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত বিল পেশ করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার আগের বৈঠকে ওই বিল থেকে অসমকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। বিজেপির দাবি, অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আপত্তিতে ওই বিলে অসমকে রাখতে হচ্ছে। কারণ, রাজ্যসভায় সরকারের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাই সেখানে কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া বিল পাশ করানো যাবে না।
গত রাতে এ বিষয়ে দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বাড়িতে বৈঠক হয়। অসমের দলীয় সাংসদরা ছাড়া সেখানে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, আরএসএসের যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ গোপাল। বৈঠক শেষে অসম বিজেপি সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য জানান, বিজেপি চায় না অসমের জমি বাংলাদেশের হাতে যাক। কিন্তু, অসমের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যকে চুক্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। কংগ্রেসও জানিয়েছে, তারা অসমকে বাদ দিতে দেবে না। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি অসহায়।
অসমকে স্থলসীমান্ত চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে এ দিন রাজ্যে বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ দেখায়। স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপি অসমকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেছে গণমুক্তি সংগ্রাম সংগঠন। দলের নেতা অখিল গগৈ বলেন, ‘‘অসমের জমি বাংলাদেশকে দেওয়া নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মত একই। কিন্তু, নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দু’টি দলই ভাল সাজতে চাইছে।’’ অসম জাতীয়তাবাদী যুব ছাত্র পরিষদও বিজেপি ও কংগ্রেসকে ভোটের রাজনীতি দূরে সরিয়ে অসমের জমি হস্তান্তর আটকানোর আর্জি জানিয়েছে।
স্থলসীমান্ত চুক্তিতে সংশোধনীর বিরোধিতা করায় মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ও কংগ্রেসের সমালোচনা করেছে আসু। ভোট-রাজনীতির স্বার্থে গগৈয়ের অসম বিরোধী নীতির অভিযোগ তুলে গত কাল ও এ দিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তারা কংগ্রেস বিরোধী মিছিল বের করে। পোড়ানো হয় গগৈয়ের কুশপুতুল। সারা অসম মুসলিম ছাত্র সংগঠন বিজেপির দ্বিচারিতার অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখায়।
অসমের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সুভাষচন্দ্র দাস এ দিন স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানান, স্থলসীমান্ত চুক্তি হলে লাঠিটিলা-ডুমাবাড়ি এলাকার ৩ কিলোমিটার অংশে বিভাজন রেখা নিশ্চিত করে টানা যাবে। সেখানে পাকা বেড়াও বসানো হবে। চুক্তির ফলে বাংলাদেশ থেকে ২ হাজার ১৬০ বিঘা জমি অসমের হাতে আসবে। অন্য দিকে করিমগঞ্জ ও ধুবুরির বিভিন্ন জায়গা মিলিয়ে বাংলাদেশ পাবে ৮১১ বিঘা জমি।
গত কাল নয়াদিল্লিতে অমিত শাহের বৈঠকে উপস্থিত তেজপুরের সাংসদ রামপ্রসাদ শর্মা এ দিন বলেন, ‘‘সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করতে চুক্তি সম্পাদন করা জরুরি। এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। বিল পাশ না হলে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের সম্পর্কে ভুল বার্তা যেত। বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকত।’’ তিনি জানান, ওই চুক্তির জেরে প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমি হারাবে পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু সে রাজ্যের সরকার এ নিয়ে আপত্তি তোলেনি। অসমের চেয়ে বেশি জমি হারাবে মেঘালয়, ত্রিপুরাও। এক মাত্র অসম থেকেই বাংলাদেশ যে পরিমাণ জমি পাবে, তার বেশি জমি রাজ্য ফেরত পাবে। রামপ্রসাদ জানিয়েছেন, মূল চুক্তিতে অসমের ৪৯৯ একর জমি বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা থাকলেও, সংশোধিত বিলে ওই পরিমাণ কমিয়ে ২৬৭ একরের কাছাকাছি করা হয়েছে।
অসমের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্ত এখন রয়েছেন দিল্লিতে। তিনি গত কাল দলীয় হাইকম্যান্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন। অঞ্জনবাবুর কথায়, ‘‘বিজেপি রাজনৈতিক খেলা খেলছে। অযথা কংগ্রেসের নাম তাতে জড়ানো হচ্ছে।’’ তাঁর মন্তব্য, ‘‘সংসদে সংশোধনী পাশ করানোর ক্ষেত্রে তরুণ গগৈয়ের কোনও ভূমিকা থাকবে না। এটা বিজেপি জানে। তবু তারা গগৈয়ের নাম তুলে নিজেদের বাঁচাতে চাইছে।’’