হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ফাইল চিত্র।
গুয়াহাটি, ১০ এপ্রিল: বিজেপি ও তার মিত্র জোট অসমে হেসেখেলে ৯০ পার করবে, এমনকি ১০০ আসন পেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তাঁর বক্তব্য, এ বারের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের আসন ১৮ থেকে ২২টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অগপ ২টি এবং বিজেপি ১টি সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত আসনে জিততে পারে। ইউডিএফ পেতে পারে৪-৫টি আসন।
বিরোধীরা যখন দাবি করছে, অসমের ইতিহাসে সর্বাধিক, ৮৫.৯১ শতাংশ ভোট পড়ার অর্থ, পালাবদলের পক্ষে ভোট দিয়েছে জনতা, তখনই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, “এ বারের নির্বাচনে ভূমিপুত্র ভোটারদের অংশগ্রহণ অভাবনীয় ভাবে বেড়েছে। অন্যান্য বার শুধু সংখ্যালঘু এলাকায় ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। কিন্তু এ বার সর্বত্র ব্যাপক ভোটদান দেখিয়ে দিচ্ছে, অসমের সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে এসেছেন অসমবাসী।” বিজেপির হিসাব, বড়োভূমির ১৫টি আসনে বিপিএফ বা ইউপিপিএল, যারাই জিতুক, তা এনডিএ-র ঘরেই থাকবে। বরাকে অন্তত ৯-১০টি আসন বিজেপি পাচ্ছেই। বাকি ৪০ আসন পেয়ে ‘ম্যাজিক নম্বর’ ছুঁতে এনডিএ-র কোনও সমস্যাই হওয়ার কথা নয়। বলা হচ্ছিল, আহোমরা বিজেপির প্রতি রুষ্ট। বিরোধী জোটের তিন মাথা গৌরব গগৈ, লুরিণজ্যেতি গগৈ ও অখিল গগৈ আহোম। তাই উজানিতে চাপে বিজেপি। সেই তত্ত্ব উড়িয়ে হিমন্ত বলেন, “ওই ‘তিন গগৈ তত্ত্ব’ ছিল আহোমদের মধ্যে বিভাজন ঘটানোর চেষ্টা। আহোমরা তা ভাল চোখে দেখেননি। ফল ঘোষণার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওই তিন গগৈকেই উদ্বিগ্ন থাকতে হবে।” বস্তুত হিমন্তের দাবি, বিজেপির ‘জন আশীর্বাদ যাত্রা’ দলীয় কর্মীদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে এবং গত অক্টোবরেই দলের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।
গায়ক জ়ুবিন গর্গের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে অসমের শাসক বিজেপিই সবচেয়ে চাপে। যদিও হিমন্তের বক্তব্য, ‘‘নির্বাচনে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। বরং পরিবারের অনুরোধ না মেনে, জ়ুবিনকে ভোট-রাজনীতির স্বার্থে নির্লজ্জ ভাবে ব্যবহার করায় কংগ্রেস জ়ুবিনের অভিশাপেই শোচনীয় ফল করবে।” ‘জেন জ়ি’ বা তরুণ প্রজন্মের প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হিমন্ত বলেন, “জেন জ়ির আন্দোলন নেপাল-বাংলাদেশে চলে। অসমে পরিবারের বাঁধনই বড় কথা। ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোট দেয়।” গৌরব গগৈকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে নেতা নিজের স্ত্রীকে অসমের ভোটার করতে পারেননি, তিনি কোন মুখে ‘বড় অসম’ গড়ার কথা বলেন?”
ইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমলের বক্তব্য, “দেশের মধ্যে রেকর্ড হারে ৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে নামনি অসমের বিভিন্ন এলাকায়। তাই আমাদের আশা, গত বারের মতো আমরা এ বারেও ১৬টি আসন পাব। বিজেপি-বিরোধী সরকার এলে আমরা তার শরিক হতে তৈরি।” নির্বাচনের সময়ে একাধিক এলাকায় ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটে। ভোটকেন্দ্র দখল ও ইভিএম ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। আগামী কাল উত্তর করিমগঞ্জের বেবিল্যান্ড হাই ইংলিশ স্কুলে ফের ভোট নেওয়া হবে। ভোটের পরেই একটি সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কালগভীর রাতে অসম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরিণজ্যোতি গগৈয়ের বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে