সংসদে স্থলসীমান্ত চুক্তি বিলটির ভবিষ্যৎ ফের অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। মোদী সরকার অসমকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আংশিক ভাবে স্থলসীমান্ত চুক্তি রূপায়ণ করতে চাইলে, বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস!
রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ আজ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে মনমোহন সিংহ সরকারই এই চুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু অসমের ভোটে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে আপাতত এই রাজ্যকে ওই চুক্তির আওতার বাইরে রাখার চেষ্টা করছে বিজেপি। আজাদ বলেন, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সংকীর্ণ রাজনীতির অুপ্রবেশ কংগ্রেস মেনে নেবে না। সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীদেরও আজ এ কথা জানিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। যার অর্থ বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তিটি সংসদের চলতি অধিবেশনে পাশ হওয়া নিয়ে ফের জটিলতা তৈরি হল।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নায়ডু গত কালই জানিয়েছিলেন, মে-র ৫ তারিখের পর ভারত-বাংলাদেশ স্থলসীমান্ত চুক্তিটি সংসদে পেশ করা হবে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিলটি পাশ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে সরকারি সূত্রে গত কাল জানানো হয়েছিল, বিলের আওতা থেকে আপাতত অসমকে বাদ রাখা হচ্ছে। অসমের বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে, এবং সেখানকার বিজেপি নেতাদের দাবি মেনে নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। তবে পশ্চিমবঙ্গ এবং মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ড বিনিময়ের অংশটি হুবহু একই থাকবে।
ঘরোয়া আলোচনায় কংগ্রেস নেতারা আজ বলেন, রাজনীতির কারণে বিজেপি যদি অসমকে বিলের আওতা থেকে বাদ দিতে পারে, কংগ্রেসই বা তাদের ছাড় দেবে কেন? বিলটি রাজ্যসভায় রুখে দেওয়ার চেষ্টা করবে কংগ্রেস। এ জন্য বাকি বিরোধীদের সঙ্গেও কথা বলবে তারা।
প্রশ্ন হল, অসমকে বিলের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হলে তৃণমূল কংগ্রেস কি তাকে সমর্থন জানাবে? স্থলসীমান্ত চুক্তিতে তৃণমূলের সায় দেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সফরে গিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তৃণমূলের সমর্থনের ব্যাপারে কেন্দ্র আশাবাদী। এ দিনও কলকাতায় মমমতা এই বিলকে সমর্থনের কথাই বলেছেন। তবে কংগ্রেস বেঁকে বসায় সংসদে বিলটির গতিপথ আর মসৃণ রইল না।