(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাস, উপদূতাবাসের সমস্ত কর্মীর পরিজনদের দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছিল নয়াদিল্লি। সপ্তাহ খানেক পর তা নিয়ে মুখ খুলল ঢাকা। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানালেন, ভারতের এই সিদ্ধান্তের কারণ তাঁরা বুঝতেই পারেননি। তাঁদের মতে বাংলাদেশে ভারতীয়দের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও উদ্বেগই নেই।
বুধবার ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৌহিদ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারকে ফিরে যাওয়ার জন্য নয়াদিল্লির পরামর্শ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। তৌহিদ বলেন, ‘‘নিরাপত্তা নিয়ে কোনও শঙ্কা নেই। সঙ্কেত যে কী, একেবারেই বুঝতে পারছি না। এটা ভারতের নিজস্ব ব্যাপার। তারা তাদের কর্মচারীদের ফিরে যেতে বলতেই পারে। কেন বলেছে, আমি কোনও কারণ খুঁজে পাইনি।’’
বাংলাদেশের ভোট যত এগিয়ে আসছে, সেখানে কোনও না কোনও অশান্তির খবর আসছে। সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিয়ে এর আগেও একাধিক বার সরব হয়েছে দিল্লি। গত ২০ জানুয়ারি সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছিল, বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবারকে দেশে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। ওই দেশে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। যদিও বিদেশ মন্ত্রক একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেয়, বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং উপদূতাবাসগুলি খোলা থাকবে। তা বন্ধ করার কোনও পরিকল্পনা আপাতত নয়াদিল্লির নেই।
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের নিরাপত্তা বাংলাদেশে বিঘ্নিত, মানতে চাননি তৌহিদ। তিনি বলেন, ‘‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু ঘটেনি। হয়তো তাঁদের মনে কোনও আশঙ্কা রয়েছে। তাঁরা কোনও বার্তা দিতে চান কি না, জানি না। আমি এর কোনও কারণ খুঁজে পাইনি। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করারও নেই।’’ নিরাপত্তার উদ্বেগ নিয়ে ঢাকায় উপস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি তৌহিদের। ভোটের আগের অশান্তির মধ্যেও অস্বাভাবিক কিছু খুঁজে পাননি তিনি। বলেছেন, ‘‘অতীতের নির্বাচনকালীন সময়ের তুলনায় এখন সংঘর্ষ বেশি হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। এমন কোনও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে এমন পদক্ষেপ করতে হবে।’’