(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ। ফের তা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো কূটনৈতিক সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন থেকে ফের ভারতীয় নাগরিকেরা বাংলাদেশের ভিসা পাবেন। ভিসা ও দূতাবাস সংক্রান্ত (কনস্যুলার) অন্যান্য সুযোগসুবিধা ভারতীয়দের জন্য ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।
২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি ত্যাগ করে ভারতে চলে আসার পর থেকেই সে দেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ। সংখ্যালঘু নির্যাতনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে বার বার। একাধিক বার তা নিয়ে উদ্বেগ জানায় ভারত সরকারও। এই পরিস্থিততে গত ডিসেম্বরে সংখ্যালঘু পীড়নের প্রতিবাদে দিল্লি, আগরতলা এবং কলকাতায় বাংলাদেশের হাই কমিশন ও উপদূতাবাসগুলিতে হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠন বিক্ষোভ দেখায়। ২২ ডিসেম্বর ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়া সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বাংলাদেশের হাই কমিশন। দিল্লি ও আগরতলা থেকে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল। দু’মাসের মধ্যে তা বদল করা হল।
ভারত থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে নানাবিধ অশান্তির প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের ভিসা পরিষেবায় কড়াকড়ি করেছিল। কেবল চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ‘ডবল-এন্ট্রি’ ছাড়া বাকি সব ধরনের ভিসা পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল অনির্দিষ্ট কালের জন্য। তবে এ বার সেই পরিষেবাও চালু হচ্ছে। সে দেশে অবস্থিত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, ভিসা পরিষেবা চালু করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
দেড় বছর বাংলাদেশের শাসনভার ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ভোট হয়েছে এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তারেক রহমানের বিএনপি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক শপথ নেন। অনেকেই মনে করেছিলেন, তারেকের আমলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে। বাস্তবে সেই ইঙ্গিত মিলছে। তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে গিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তারেকের সঙ্গে তাঁর বৈঠকও হয়। শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন। যদিও ভিসা চালু করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও ঘোষণা কোনও তরফেই করা হয়নি।