অসমান মাঠেই শুরু বইমেলা

এবড়ো-খেবড়ো মাঠেই শুরু হল বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এক দিকে, প্রদীপ জ্বালিয়ে মেলার উদ্বোধন করছিলেন সাংবাদিক-শিক্ষাবিদ জ্যোতিলাল চৌধুরী, পাশে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার দিলীপকুমার পাল। অন্য দিকে, শ্রমিকরা তখনও মাঠের মধ্যে বালি-পাথরের গুঁড়ো ছড়িয়েই চলেছেন। এই পরিস্থিতির জন্য পুরসভাকে দায়ী করেছে মেলার আয়োজক বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৬ ০৩:৩৮
Share:

শুভারম্ভ। শিলচর বইমেলা। শুক্রবার স্বপন রায়ের তোলা ছবি।

এবড়ো-খেবড়ো মাঠেই শুরু হল বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এক দিকে, প্রদীপ জ্বালিয়ে মেলার উদ্বোধন করছিলেন সাংবাদিক-শিক্ষাবিদ জ্যোতিলাল চৌধুরী, পাশে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার দিলীপকুমার পাল। অন্য দিকে, শ্রমিকরা তখনও মাঠের মধ্যে বালি-পাথরের গুঁড়ো ছড়িয়েই চলেছেন। এই পরিস্থিতির জন্য পুরসভাকে দায়ী করেছে মেলার আয়োজক বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন।

Advertisement

তাদের কথায়, সভা-সমিতি ইত্যাদি নানা ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি হয়েছে পুরসভার বিপিনচন্দ্র পাল সভাস্থল। কিন্তু সারা বছরেও এর কোনও পরিচর্যা নেই। ফলে একে আর অন্য কেউ কোনও কাজে লাগানোর কথা ভাবতেও পারেন না। শুধু বইমেলার সময় তাঁরা চেয়ে নেন। প্রতি বছর মেলার সময় বালি-পাথরের গুড়ো এনে ফেলা হয়। পুরসভা একে ধরে রাখারও কোনও ব্যবস্থা করে না। ফলে বইমেলা এলে মাঠ-প্রস্তুতির কথাও তাঁদেরই ভাবতে হয়।

বরাক বঙ্গের জেলা সভাপতি তৈমুর রাজা চৌধুরী জানান, গত বছর তাঁরা বইমেলায় তৎকালীন মন্ত্রী অজিত সিংহের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে পুরসভাকে দিয়েছিলেন। তারপরও এ বার মাঠ নিয়ে সমস্যা সেই একই রকম।

Advertisement

শিলচর এখন বিজেপি পরিচালিত পুরসভা হলেও ডেপুটি স্পিকার দিলীপবাবু তাঁর প্রধান অতিথির ভাষণে মাঠ নিয়ে একটি বাক্যও খরচ করেননি। তিনি শহরবাসীকে জানান, তারামণ্ডল, ড্রাইভিং স্কুল, ডেন্টাল হসপিটাল ও মিউজিয়াম হবে শিলচরে। অর্থ মোটেও বাধা নয়। সমস্যা শুধু উপযুক্ত জমির। জমি খুঁজে বের করতে জেলা প্রশাসন ধীরে চলছে বলেও অভিযোগ করেন দিলীপবাবু।

বরাক বঙ্গের দশদিনের বইমেলায় পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, গুয়াহাটি, গোরক্ষপুর-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বই নিয়ে এসেছেন প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতারা।

এ দিকে, বইমেলা চত্বর নিয়ে উদ্যোক্তাদের ক্ষোভের প্রেক্ষিতে পুরপ্রধান নীহারেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুর বলেন, ‘‘গত বছর অজিত সিংহের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে দিয়ে বরাক বঙ্গ ঠিকাদার নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল। গত এক বছরেও সেই ঠিকাদারকে ডেকে পাওয়া যায়নি। তাই আমরা নিজেরাই পুকুর ভরাটের কাজ হাতে নিয়েছি। বৃষ্টিপাতের দরুন এতদিন কাজে হাত দেওয়া যায়নি। এখন মাটি ফেলা শুরু হবে। বইমেলার জন্য এই কাজ আরও ক’দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

তাঁর দাবি, ‘‘জেসিবি লাগিয়ে মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তাঁরাই মেলার উপযুক্ত করে দিয়েছেন। বর্ষার দিনে জল জমে যাওয়ার কারণে মাঠে একটু সমস্যা রয়েছে।’’ পুকুর ভরাটের পর সেই কাজও তাঁরা করবেন বলে নীহারবাবু জানান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement