রেশমা ও বিসমিল্লা। অমিত শাহের দুই যোগ-প্রশিক্ষক।—নিজস্ব চিত্র।
যোগ দিবসকে হাতিয়ার করে বিহারের সংখ্যালঘু সমাজকে বার্তা দিতে আসরে নামল বিজেপি। শেষ মুহূর্তে কোনও বদল না হলে আগামিকাল দলীয় সভাপতি অমিত শাহকে পটনায় যোগ শেখাবেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই কিশোরী। আসন্ন বিহার নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই ১৭ বছরের রেশমা ও ১৫ বছরের বিসমিল্লা খাতুনকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামিকাল পটনার মইনুল হক স্টেডিয়ামে বিশ্ব যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির থাকার কথা অমিত শাহের। সেই সঙ্গে থাকবেন প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী, নন্দকিশোর যাদব, রাজ্য সভাপতি মঙ্গল পাণ্ডে-সহ ছোট বড় সব মাপের নেতারা।
সেখানেই যোগ শেখাবেন পশ্চিম চম্পারণের বাসিন্দা রেশমা ও বিসমিল্লা। রেশমার বাড়ি সেনোরিয়া গ্রামে। বিসমিল্লার বাড়ি লালসরাই গ্রামে। স্কুল পেরিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরযুগ প্রসাদ কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী রেশমা। সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। সপ্তম শ্রেণি থেকেই যোগের প্রতি টান রেশমার। সে সময়ে তিনি সীতারাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। স্কুলের মাঠেই আসন শিখতে শুরু করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সূর্য নমস্কার যোগের প্রথম অধ্যায়। আমি প্রতিদিন সূর্য নমস্কার করি। নিয়মিত যোগ করলে মন আর শরীর, দু’টোই ভাল থাকে।’’ বাবা লেশ মিয়া আর মা নুর সাইদা বিবিও মেয়ের কাজ দেখতে এসেছেন। তাঁদের কথা, ‘‘ধর্মের সঙ্গে যোগকে মিলিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।’’
মাধ্যমিক দেওয়া বিসমিল্লা খাতুনও পাশের গ্রামে থাকেন। ছোট থেকেই যোগ শিখছেন তিনি। কিন্তু এত বড়় অনুষ্ঠানে কখনও থাকেননি। একটু হলেও টেনশনে আছেন। হাসতে হাসতে বললেন, ‘‘যোগ করলে টেনশন চলে যাবে।’’
ছোট থেকে রেশমা-বিসমিল্লাকে যোগ-আসন শেখাচ্ছেন অশোক সরকার। আদতে বাংলাদেশের বাসিন্দা অশোকবাবুর পরিবার ১৯৫৫ সালে উদ্বাস্তু হয়ে আসে ভারতে। তখন থেকেই বিহারের পশ্চিম চম্পারণে থাকেন তাঁরা। রামদেবের শিষ্য অজিতবাবুর সঙ্গে রেশমা-বিসমিল্লা ছাড়াও রয়েছেন আরও ১২ জন প্রশিক্ষক। তাঁদের অধিকাংশই বাঙালি স্কুলপড়ুয়া।
সীতারাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিদিন ৩৫ জনকে শেখান অজিতবাবু। তাঁর কথায়, ‘‘আমার জন্য এই শিবির রীতিমতো সম্মানের।’’
রেশমা-বিসমিল্লার নাম শুনতেই উজ্জ্বল হয়ে উঠল রামদেবের যোগ সমিতির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অজিত কুমারের চোখ। তাঁর কথায়, ‘‘বিশ্ব ক্ষেত্রেও দু’জন যোগাসনে যথেষ্ট নাম করেছে। রামদেবের হাত থেকে পাঁচ হাজার টাকার পুরস্কারও পেয়েছে। তাই এই দু’জনকেই পটনার জন্য বাছা হয়েছে।’’
তবে রেশমা-বিসমিল্লার নির্বাচনের পিছনে বিহার রাজনীতির অঙ্ক রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, যোগ-দিবসে রেশমা-বিসমিল্লাকে বেছে সংখ্যালঘু সমাজের কাছাকাছি যেতে চেয়েছেন অমিত শাহেরা। জেডিইউ মুখপাত্র সঞ্জয় সিংহের কটাক্ষ, ‘‘এখন ওরা যোগ করছে। এর পরে বিয়োগ হবে।’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা যোগের বিরুদ্ধে নই। তবে এ ভাবে সংখ্যালঘু সমাজকে কোনও বার্তা দেওয়া যাবে বলে আমরা মনে করি না। কারণ, সংখ্যালঘুরা জানেন বিজেপি কী।’’
জেডিইউ নেতার আরও দাবি, বিধান পরিষদের নির্বাচনের ফলে বিহারে আদর্শ আচরণবিধি চালু রয়েছে। সেই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুষ্ঠানে বিজেপি সভাপতি এসে আচরণবিধি ভাঙছেন।