(বাঁ দিক থেকে) মানিক সাহা, প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মা, বিপ্লব দেব। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাজ্য সরকারে একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও, ত্রিপুরার স্বশাসিত জেলা কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচনে ধরাশায়ী হল বিজেপি। শুক্রবার এডিসি নির্বাচনের ভোটগণনা ছিল। সকাল থেকেই ইঙ্গিত মিলছিল, প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মার দল তিপ্রা মথা বিপুল ভোটে জিততে চলেছে। গণনা শেষ হওয়ার পরে দেখা গেল প্রদ্যোতের দল ভূমিধস-বিজয় পেয়েছে। ঘটনাচক্রে, ত্রিপুরা সরকারে বিজেপির শরিক দল এই মথা।
ত্রিপুরার এডিসিতে মোট আসন ২৮টি। তার মধ্যে ২৪টি জিতেছে মথা। চারটিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। সিপিএমের গণমুক্তি পরিষদ বা একদা বিজেপির জোটসঙ্গী আইপিএফটি কোনও আসন পায়নি। ভোটের পুঙ্খানুপুঙ্খ ফল শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে ত্রিপুরার রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল অনেকেরই বক্তব্য, শুধু জনজাতি অংশের সমর্থন নয়, বেশ কিছু এলাকায় হিন্দু বাঙালি এবং বাঙালি মুসলিমেরও সমর্থন পেয়েছে মথা। মুসলিম ভোট নিয়ে বিজেপির খুব একটা মাথাব্যথা হওয়ার কারণ নেই। তবে বাঙালি হিন্দুদের জনসমর্থনও কেন বিভিন্ন আসনে পদ্মশিবির খোয়াল, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বিজেপির কেউই বিকেল পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। ত্রিপুরা বিজেপির প্রধান মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী দুপুরে জানিয়েছিলেন, বিকেলে কথা বলবেন। কিন্তু বিকেলে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে ত্রিপুরা বিজেপির আর এক মুখপাত্র নব্যেন্দু ভট্টাচার্য ফোন ধরে বলেন, ‘‘প্রতিক্রিয়া জানানোর মতো অবস্থায় নেই।’’
পাঁচ বছর আগে যখন ত্রিপুরায় এডিসি নির্বাচন হয়েছিল, তখন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিপ্লব দেব। সেই ভোটে ১৩টি আসনে লড়াই করে ৯টি আসন জিতেছিল বিজেপি। তখন অবশ্য মথা বিজেপির শরিক ছিল না। সেই পর্বে বিজেপির শরিক ছিল আইপিএফটি। তিনটি আসনে নির্দল প্রার্থীরা জিতেছিলেন বিজেপির সমর্থনে। মথা একক ভাবে জিতেছিল ১৬টি আসন। এডিসির ক্ষমতা দখলে জাদুসংখ্যা ১৫। ফলে পাঁচ বছর আগে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল, এ বার তা-ও ধরে রাখতে পারেনি বিজেপি। ২৮টি আসনে লড়ে জয় পেয়েছে মাত্র চারটিতে।
২০২০ সালে পুজোর আগে কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গড়েছিলেন প্রদ্যোত। নতুন দল গড়লেও তাঁর সঙ্গে বিপ্লবের সম্পর্ক ভাল ছিল। অন্তত সমন্বয় রেখে চলতেন। কিন্তু মানিক সাহা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে মথা রাজ্য সরকারে বিজেপির শরিক হলেও সেই ইতিবাচক সম্পর্ক থাকেনি প্রদ্যোতের সঙ্গে। এডিসি ভোটের আগেও মানিকের বিভিন্ন বক্তৃতায় মথার সম্পর্কে তিক্ততা প্রকাশ্যে এসেছিল। শুক্রবার জয়ের পরে প্রদ্যোত বলেছেন, ‘‘এই জয় মানুষের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। মানুষ আমাদের ভালবেসেছেন। এই কারণে ভালবেসেছেন, কিছু নেতা চেয়েছিলেন আমরা যাতে তাদের সঙ্গে আপস করি। কিন্তু আমরা তা করিনি।’’
২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে ত্রিপুরায় শাসকের আসনে প্রত্যাবর্তন হয়েছিল বিজেপির। সিপিএমকে তৃতীয় স্থানে সরিয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠেছিল মথা। কিন্তু মধ্য মেয়াদেই বিরোধী দল থেকে সরকারে শামিল হয় তারা। সেই জায়গায় প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায় সিপিএম। কিন্তু সরকারের শরিক হলেও এডিসি ভোটে বিজেপি-মথার বনিবনা হয়নি। যার ফলস্বরূপ, মথার সামনে দাঁড়াতেই পারল না বিজেপি।