কিরণময় নন্দ। —ফাইল চিত্র।
আগামী বছরের গোড়ায় উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন। তার আগে সম্প্রতি রামমন্দিরের অনুদানের টাকা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়েছে গোটা দেশেই। বিষয়টি থেকে নজর ঘোরাতে সমাজবাদী পার্টির ভাঙনের সম্ভাবনার কথা রটাচ্ছে বিজেপি—এমন অভিযোগ জানালেন এসপি-র সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দ। তাঁর কথায়, “এক জন সাংসদও দল ছাড়বে না। বিজেপি নজর ঘোরাতে এই হাওয়া তুলেছে। রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব মৌর্য্য এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য ওমপ্রকাশ রাজভড় এই বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন।” ঘটনাচক্রে, দিন তিনেক আগে দিল্লিতেও সংসদের এক গুরুত্বপূর্ণ মহল থেকে জানানো হয়, এসপি ভাঙা রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব।
এনডিএ-র শরিকদল সুহেলদেব ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী রাজভড় প্রথম আওয়াজ তুলেছিলেন, এসপি-র বহু নেতা ও সাংসদ বিজেপিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ‘অপারেশন লোটাস’-এর পর এ হেন মন্তব্যে স্বাভাবিক ভাবেই দিল্লিতেও আলোড়ন পরে। প্রভাবশালী ওবিসি নেতা ওমপ্রকাশ একদা অখিলেশের সহযোগী ছিলেন। ২০২৩ সালে তাঁর দল এসপি-র সঙ্গ ছেড়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ-তে যোগ দেয়। তিনি এক্স পোস্টে লিখেছিলেন, ‘‘সমাজবাদী পার্টিতে বড় ধরনের বিভাজন হতে চলেছে। রামগোপাল যাদব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি দিয়েছেন। খনি কেলেঙ্কারি এবং গোমতী রিভার ফ্রন্ট কেলেঙ্কারির মূল হোতা কে, তা উত্তরপ্রদেশের সকলেই জানেন। ফাঁস চেপে বসার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এসপি উদ্বিগ্ন। মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গের কথা বাদ দিন, পুরো এসপি বিজেপিতে যোগ দিতে প্রস্তুত।’’
কিরণময় জানিয়েছেন, এই মিথ্যা প্রচারের বিরোধিতা করে এসপি-র সংসদীয় অনেকেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, “এক জন সাংসদেরও দল ছাড়ার সম্ভাবনা নেই। তাঁরা সমাজবাদী পার্টির নীতি ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিছু দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, কী ভাবে মিথ্যা রটনা করেছে বিজেপি।” এসপি-র এই বর্ষীয়ান নেতার কথায়, “রামমন্দির নিয়ে যা ঘটছে, তাতেই প্রমাণিত এঁরা রামভক্ত নন, ভগবান রামের নামে চুরি চলেছে। আমরা আগামী বছর ক্ষমতায় এসে সমস্ত ষড়যন্ত্রের তদন্ত করব।”
এই চুরির অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি সরব হয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি জানান, এ হেন ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। রেয়াত পাবেন না কেউ। তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। আদিত্যনাথের কথায়, ‘‘রামচন্দ্রের জন্য আমরা ৫০০ বছর অপেক্ষা করেছি। সিটকে ১৫টা দিন সময় দিন।’’
কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব মুখে যাই বলুন, রাজ্যে ভোটের আগে বিষয়টি বেদম অস্বস্তিতে ফেলেছে দলকে। রাজনৈতিক শিবিরের মতে, বিষয়টি নিয়ে ঠিক মতো মাঠে নামতে পারলে উচ্চ বর্ণের হিন্দু ভোট তথা বিজেপি ভোট ব্যাঙ্কের আবেগে ক্ষোভেরহাওয়া তুলতে পারবে অখিলেশ যাদবের এসপি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে