—প্রতীকী চিত্র।
সংসদ, সড়কের পরে এ বার বিধানসভা। সংবিধান সংশোধনকারী মহিলা সংরক্ষণ বিল গত কাল বিরোধীদের কারণে লোকসভায় পরাস্ত হওয়ায় বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকে নিন্দা প্রস্তাব আনার নির্দেশ দিলেন বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কংগ্রেস তথা বিরোধী দলগুলি কী ভাবে এককাট্টা হয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে মহিলাদের ক্ষমতায়নের মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ রুখে দিয়েছে, তা নিয়ে নিন্দা প্রস্তাবে আলোচনা করার পরিকল্পনা নিয়েছে গেরুয়া শিবির।
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কিন্তু মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করে নিজেদেরক্ষমতা ধরে রাখার ছক কষছে বিজেপি, এই যুক্তিতে একজোট হন বিরোধীরা। যার ফলে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদদের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয় মোদী সরকার। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গত কালই সন্ধ্যায় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সংসদ চত্বরে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান মূলত বিজেপি মহিলা সাংসদেরা। রাতে ভবিষ্যৎ রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠকে বসেন দলের জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষ এবং অন্য সাধারণ সম্পাদকেরা। সূত্রের মতে, বৈঠকে ঠিক হয় পরাজয়ের যাবতীয় দায় চাপিয়ে দেওয়া হবে কংগ্রেস তথা ইন্ডিয়া শরিকদের উপরে। কংগ্রেস যে মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়েই ঐকান্তিক নয়, তা নিয়ে সর্বাত্মক প্রচারে নামবেন বিজেপি নেতারা।
পরবর্তী ধাপে আজ বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন নিতিন নবীন। যাতে ঠিক হয়, দেশ জুড়ে কংগ্রেস তথা সমমনস্ক দলগুলির ভূমিকার সমালোচনা যাতে করা সম্ভব হয় সে কারণে সব বিজেপিশাসিত রাজ্যের বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব আনা হবে। বিল আটকে দেওয়ার পিছনে ইন্ডিয়া শিবিরের দলগুলির ‘মহিলা-বিরোধী মনোভাব’ই দায়ী বলে প্রচার করে তার নিন্দায় সরব হতে হবে। আজ সংসদ অধিবেশনের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, ‘‘কংগ্রেস পাপ করেছে। এর ফল আগামী দিনে কংগ্রেস ও শরিক দলগুলিকেভুগতে হবে।’’
গত কাল সন্ধ্যা থেকেই সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গিয়েছিল বিজেপি নেতা-নেত্রীদের। কাল রাতে এসপি নেতা অখিলেশ যাদবের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেতা-কর্মীরা। আজ সকালে রাহুল গান্ধীর বাড়ির সামনে বিজেপি সমর্থকেরা যে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, তাতে উপস্থিত ছিলেন হেমা মালিনীর মতো বর্ষীয়ান সাংসদও। সেখানে পুলিশের হাতে আটক হন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রক্ষা খাডসে ও দিল্লির সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ। পরে তাঁদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। সূত্রের মতে, আগামী দিনে দেশের প্রায় সব রাজ্যের রাজধানী, বড় শহরে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন বিজেপি সমর্থকেরা। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন মহিলারা।
ঠিক হয়েছে, আজ যে ভাবে রাহুলের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে হেমা মালিনী নেতৃত্ব দিয়েছেন, আগামী দিনে রাজ্যওয়াড়ি আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকবেন দলের কোনও জনপ্রিয় নেত্রী বা পরিচিত মুখ। ভোটমুখী রাজ্যগুলিতেও মহিলা সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা বিল কী ভাবে তৃণমূল ও ডিএমকের মতো দলেরা কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আটকে দিয়েছে, তা নিয়ে জনতার দরবারে বিচারচাইবে বিজেপি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে