করিমগঞ্জ কলেজে নিরাপত্তাবাহিনী। ছবি: শীর্ষেন্দু সী
করিমগঞ্জ কলেজ না দুর্গ তা বোঝা যাচ্ছিল না তখন!
সাত-সকালেই কলেজের প্রবেশপথে হাজির ১৫-২০ জন সিআরপি জওয়ান, মহিলা পুলিশ, অসম পুলিশের জনাতিনেক সাব-ইন্সপেক্টর, সংঘর্ষ-রোধী গাড়ি ‘বজ্র’। ছিলেন করিমগঞ্জের সদর সার্কেল অফিসার হুমেন গোঁহাই বরুয়াও।
সকাল সকাল কলেজের সামনে সশস্ত্র পুলিশ-প্রহরা দেখে পথচারীরা অবাক। তা হলে কি জঙ্গি ঢুকেছে কলেজ চত্বরে— এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খেতে শুরু করে। কেউ কেউ ভাবেন— ভূমিকম্পের পর বিপর্যয় মোকাবিলার মহড়া চলছে সেখানে।
আসল কারণ স্পষ্ট হয় কিছুক্ষণেই। পুলিশ সূত্রে খবর মেলে, গত রাতে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছিলেন করিমগঞ্জের পুলিশ সুপার প্রদীপরঞ্জন কর। আটক করা হয়েছিল ২০টি মোটরসাইকেল। সওয়ারিদের কাছে ছিল না হেলমেট। মোটরসাইকেলেগুলিও ছিল নম্বরবিহীন। কয়েকটি মোটরসাইকেলে চিন জন করেও সওয়ারি ছিলেন। সবাইকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সদর থানায়। জরিমানা করা হয়।
আটকদের একাংশ ছিলেন করিমগঞ্জ কলেজের ছাত্র। পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কলেজে। পুলিশের বক্তব্য, করিমগঞ্জ সদর থানাতেই আটক ছাত্রদের কয়েক জন সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। খবর পৌঁছয় পুলিশকর্তার কাছে। গত রাতেই তিনি ঠিক করেন, ছাত্ররা পথ অবরোধ করলে ছেড়ে কথা বলবে না পুলিশ।
পুলিশকর্তাদের একাংশের বক্তব্য— করিমগঞ্জে জাতীয় সড়ক অবরোধ যেন অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। দমকল সময়মতো ঘটনাস্থলে না পৌঁছলে অবরোধ, জেলার কেউ অন্য কোনও রাজ্যে মারা গেলেও যানচলাচল থম্কে যায় করিমগঞ্জের জাতীয় সড়কে। মাঝমধ্যে জাতীয় সড়কে অবরোধের জেরে দুর্ভোগ বাড়ে সাধারণ মানুষের।
কলেজ পড়ুয়াদের মোটরসাইকেল আটকানোর পর জাতীয় সড়ক অবরোধের ছকের খবর পেয়ে সক্রিয় হয় পুলিশ। এ দিন সকাল ৮টায় করিমগঞ্জ কলেজের প্রবেশপথে মোতায়েন করা হয় পুলিশ-সিআরপি বাহিনী।
নিরাপত্তাবাহিনীর ‘যুদ্ধং দেহি’ মনোভাবে করিমগঞ্জ কলেজের ছাত্ররা জাতীয় সড়ক অবরোধের ‘সাহস’ দেখাতে পারেননি। তবে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান নিয়ে খুশি শহরবাসীর একাংশ। কারণ এ জন্য মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে করিমগঞ্জে। পুলিশ সূত্রে খবর, গত রাতেও শহরের সন্তরবাজার পয়েন্টে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জখম হন এক সাইকেল আরোহী।