দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড। ছবি: পিটিআই।
আগুনের আঁচ থেকে স্ত্রীকে আগলানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন দু’জনেই। হোটেলে আগুন লাগার পরই আটকে পড়েছিলেন দম্পতি। নিজেদের বাঁচাতে শৌচাগারে ঢুকে পড়েন। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে অপেক্ষা করছিলেন কেউ না কেউ তাঁদের ঠিক উদ্ধার করবে। কিন্তু না। কেউই এলেন না। আগুন নেবার পর যখন হোটেলের এ ঘর ও ঘরে তল্লাশি চলছিল, তখন একটি ঘরের শৌচাগার থেকে দম্পতির দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লির মালবীয় নগরের হোটেলের দোতলার একটি শৌচাগার থেকে দম্পতির দেহ উদ্ধার হয়। দমকলের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আমাদের ধারণা, দম্পতি ভেবেছিলেন যে শৌচাগারে আশ্রয় নিলে হয়তো প্রাণে বেঁচে যাবেন। কমোডের উপর বসা অবস্থায় উদ্ধার হয় মহিলার দেহ। তাঁর পাশেই চেয়ারে বসা অবস্থায় উদ্ধার হয় স্বামীর দেহ। দেখে মনে হবে যেন, স্ত্রীকে শেষ মুহূর্তেও অভয় দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছিলেন।’’
দমকল জানিয়েছে, হোটেলের উপরতলায় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল তাঁদের। যাঁরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ ধোঁয়ার কারণে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হন, আবার কাউকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই দমকল আধিকারিক জানিয়েছেন, হোটেলের বেশির ভাগ ঘরের দরজা খোলা ছিল। ফলে উদ্ধারকাজ দ্রুত করা সহজ হয়েছিল। কিন্তু যাঁরা দোতলা এবং একতলায় ছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই মৃত্যু হয়েছে দমবন্ধ হয়ে অথবা আগুনে ঝলসে। তিন ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রসঙ্গত, বুধবার ভোরে দিল্লির ওই হোটেলে আগুন লাগে। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।