ছবি: সংগৃহীত।
গরমে যদি এসি কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তা হলে ইতিমধ্যেই ইন্টারনেট ঘেঁটে ফেলেছেন কোন কোম্পানির এসি ভাল, তার খোঁজে। কিন্তু তারও আগে যেটা জানা দরকার, তা হল এসি ইনভার্টার সমেত কিনবেন নাকি নন-ইনভার্টার এসিতেই সন্তুষ্ট থাকবেন। নন-ইনভার্টার এসি-র দাম বেশি। তুলনায় সহজলভ্য ইনভার্টার এসি। তবে শুধু দাম দেখে বিচার করলেই হবে না। দু’ধরনের এসি’রই ভাল এবং মন্দ দিক রয়েছে। কোন ঘরে এসি লাগাবেন এবং কত ক্ষণ ব্যবহার করবেন, তার উপর নির্ভর করবে কেমন এসি বেছে নেবেন।
ইনভার্টার এসি
ইনভার্টার এসির মূল বৈশিষ্ট্য হল এর কম্প্রেসরটি প্রয়োজন অনুযায়ী গতি পরিবর্তন করতে পারে। ঘর ঠান্ডা হয়ে গেলে এটি পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে ধীরগতিতে চলতে থাকে।
মন্দ দিক: ১) সাধারণ এসির তুলনায় এর দাম বেশি। কারণ এতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের দাম বেশি। ২) সারানোর খরচও বেশি। কোনও যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে তা ঠিক করতে মোটা টাকা খরচ হয়।
ভাল দিক: ১) এটি প্রায় ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারে। ২) কম্প্রেসর বারবার চালু ও বন্ধ হয় না বলে এর আয়ু বেশি। ৩) এই এসিতে আওয়াজ কম হয়।
নন-ইনভার্টার এসি
এই প্রযুক্তির এসি ঘর ঠান্ডা করার জন্য এর কম্প্রেসরটিকে ফিক্সড স্পিডে চালায়। ঘর নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠান্ডা হলেই কম্প্রেসরটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং তাপমাত্রা একটু বাড়লেই আবার পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়।
মন্দ দিক: ১) কম্প্রেসর বারবার অন-অফ হওয়ার সময়ে প্রচুর বিদ্যুৎ অপচয় হয়। ২) কম্প্রেসর চালু হওয়ার সময়ে শব্দও হয় বেশি।
ভাল দিক: ১) বাজেট ফ্রেন্ডলি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। ২) এর প্রযুক্তি সহজ হওয়ায় যে কোনও মেকানিক দিয়ে অল্প খরচে মেরামত করানো যায়।
কোনটি সাশ্রয়ী?
যদি প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার বেশি এসি চালান, তবে ইনভার্টার এসি বেশি সাশ্রয়ী হবে। হ্যাঁ শুরুতে এর পিছনে কিছু বেশি বিনিয়োগ করতে হয় ঠিকই, তবে মাসের শেষে যেহেতু বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কম আসে, তাই ১ থেকে ২ বছরের মধ্যেই বাড়তি টাকা উসুল হয়ে যায়।
অন্য দিকে, যদি এসির ব্যবহার খুবই সীমিত হয়, বসার ঘরে, খাবার ঘরে বা এমন কোনও জায়গায় যদি এসি লাগাতে চান, যেখানে দিনে সব মিলিয়ে দু’-আড়াই ঘণ্টার বেশি এসি চলবে না, তবে কম দামে নন-ইনভার্টার এসি কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিলের পার্থক্যের চেয়ে এসির মূল দামের ব্যবধানটাই বড় হয়ে দাঁড়াবে।