ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
সমাজমাধ্যমে নানা রকম ব্যাপারে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করে থাকেন বিষয়স্রষ্টারা। সে সব বিষয় কখনও প্রশংসিত হয়, কখনও বা তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে। অনেক সময়ই সেই সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না বিষয়স্রষ্টারা, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন তাঁরা। বৃহস্পতিবার তেমনই একটি ঘটনার জেরে হইচই পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়।
রাজস্থানের জনপ্রিয় বিষয়স্রষ্টা অনীতা বিশনোই। কিছু দিন আগে সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি পোস্টকে ঘিরে বেশ কয়েক দিন ধরেই তীব্র কটাক্ষের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। সেই পোস্টটিতে অনীতা লেখেন, “পোশাক যদি আরও ছোট হয়ে যায়, তবে শালীনতা আসবে কোথা থেকে?” এর পরই তাঁর উদ্দেশে ক্রমাগত সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে, যা সহ্যের বাইরে চলে গিয়েছে বলেই জানিয়েছিলেন ওই তরুণী।
জানা গিয়েছে, চরম পদক্ষেপটি করার আগে অনীতা বুধবার সকালে ইনস্টাগ্রামে লাইভ করেছিলেন। লাইভ চলাকালীন তিনি তাঁর হতাশা ব্যক্ত করেন। যাঁরা তাঁকে ক্রমাগত ট্রোল করছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ করার কথাও জানান অনীতা। আর একটি পোস্টে তিনি লেখেন যে, ‘‘আজকের পর থেকে আপনাদের বোনকে আর এই দুনিয়ায় দেখতে পাবেন না।’’ তাঁর এই কথায় অনেক অনুসারীই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং অবিলম্বে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে সমর্থন জানানোর চেষ্টা করেন। যদিও ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
অনীতার এই মানসিক অবস্থার জন্য অন্যান্য বিষয়স্রষ্টাকেও দায়ী করেছেন তরুণীর স্বামী দীনেশ। বর্তমানে জোধপুরের এমডিএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অনীতা। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। আগামী ২৪ ঘণ্টা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই ঘটনাটি সমাজমাধ্যমে ট্রোলিংয়ের কুফলের বিষয়টিকে পুনরায় উস্কে দিয়েছে।
জয়সলমের জেলার লাঠি গ্রামের বাসিন্দা অনীতা। তাঁর ভিডিয়োগুলিতে রাজস্থানের ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি, সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং সাম্প্রদায়িক সমস্যার মতো বিষয়গুলিকে তুলে ধরেন তিনি। ফেসবুকে তাঁর প্রায় ১৩ লক্ষ এবং ইনস্টাগ্রামে ৬ লক্ষ ৪৫ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে।