A Mango Named After Milk

নামে ‘মালদা’, ধামে ‘দিঘা’, তবু বাঙালি যোগ নেই আমে! নবাবের প্রিয় ফলে মুগ্ধ হন রাজ কপূরও

আম-কাহিনিতে জুড়ে গিয়েছে লখনউয়ের নবাব থেকে বলিউডের কিংবদন্তী প্রযোজক-পরিচালক ও অভিনেতা রাজ কপূরের নাম। আর সেই কাহিনির মূল চরিত্র এক সুস্বাদু আম, যার নাম ‘দুধিয়া মালদা’।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১৮:১৩
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তাতানো পোড়ানো গরমকালকে সহ্য করে নেওয়া যায় শুধু একটি ফলের জন্যই— আম! আর সেই আমে মাতোয়ারা কেবল বাঙালি নয়, ভারত জুড়েই নানা প্রদেশে আম-ভালবাসার নানা রকমফের রয়েছে। রয়েছে নানা রকমের নাম, নানা ধরনের গল্পও। তেমনই এক আম-কাহিনিতে জুড়ে গিয়েছে লখনউয়ের নবাব থেকে বলিউডের কিংবদন্তী প্রযোজক-পরিচালক ও অভিনেতা রাজ কপূরের নাম। আর সেই কাহিনির মূল চরিত্র এক সুস্বাদু আম, যার নাম ‘দুধিয়া মালদা’।

Advertisement

নামে ‘মালদা’ থাকলেও এই আমের সঙ্গে ভারতের আম-রাজধানী তথা উত্তরবঙ্গের জেলা মালদহের সরাসরি যোগ নেই কোনও। এই আম গাছের চারা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শাহ ফয়জ়ল মসজিদ চত্বর থেকে ভারতে নিয়ে এসেছিলেন লখনউয়ের নবাব ফিদা হুসেন। পুঁতেছিলেন বিহারের পটনা শহরের গঙ্গাতীরস্থ এক বিস্তীর্ণ আবাসিক এলাকা দিঘায়। পরে সেখানেই নবাবের আদরযত্নে বাড়তে থাকে দুধিয়া মালদা আমের বাগান।

শোনা যায়, গাছে জলের বদলে দুধ দেওয়া হত। কারণ, সেই সময়ে ওই অঞ্চলে দুধেল গরুর গোশালা ছিল। সেই গোশালার উদ্বৃত্ত দুধই আমবাগানে সেচের কাজে ব্যবহার করা হত। পরে যখন গাছে আম ধরে, সেই আম থেকে দুধের মতো রস বেরোতে দেখা যায়। সেই থেকেই আমের নাম হয় দুধিয়া মালদা।

Advertisement

দুধিয়া মালদা আমের বিশেষত্ব হল এর অতি পাতলা আঁটি, রসালো শাঁস আর কাগজের মতো পাতলা খোসা। মালদহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও কেন ওই নাম? তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা ইতিহাসে নেই। তবে সম্ভবত আমের উৎকর্ষ বোঝাতেই ‘মালদা’ নামটি জোড়া হয় আমের সঙ্গে। কারণ, সেকালেও পশ্চিমবঙ্গের মালদহের আমকেই উৎকর্ষে সেরা বলে মনে করা হত।

স্থানীয়েরা বলেন, দুধিয়া মালদা আমের খ্যাতি এতটাই ছড়িয়েছিল যে, ১৯৫২ সালে ওই আম খেতে মুম্বই থেকে দিঘা গাড়ি চালিয়ে এসেছিলেন বলিউডের কিংবদন্তী অভিনেতা-পরিচালক এবং প্রযোজক রাজ কপূর। দুধিয়া মালদার স্বাদ তাঁর এত ভাল লাগে যে, তিনি গাড়িতে কার্টনের পর কার্টন আম ভর্তি করে মুম্বইয়ে নিয়ে যান।

দুধিয়া মালদার খ্যাতি এর পরে বিদেশেও ছড়ায়। ১৯৯৭ সালে সিঙ্গাপুরে একটি আমের প্রদর্শনীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উৎকৃষ্ট আম প্রদর্শিত হয়। সেখানে বিশ্বের অন্য সব আমকে হারিয়ে দুধিয়া মালদা প্রথম স্থান দখল করে। অন্তত তেমনই বলছে ঋষি ফ্রম ফার্ম নামে এক সমাজমাধ্যম প্রভাবীর ইনস্টাগ্রাম রিলের তথ্য। যদিও এত খ্যাতি অর্জন করেও শেষ পর্যন্ত দুধিয়া মালদা চলে গিয়েছে বিস্মরণের আড়ালে।

যে কৃষক ওই আমকে বিখ্যাত করার নেপথ্যে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই মহম্মদ ইরফানের মৃত্যুর পরে আমবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেকটাই। পরবর্তী প্রজন্ম ওই বাগানকে উপযুক্ত গুরুত্ব দেয়নি। বরং বাগানের একটি অংশ দিয়ে দিয়েছে একটি কলেজকে। সিএনবিসি-র একটি রিপোর্ট বলছে, আপাতত পটনার দিঘায় কেবল ১০০০টি গাছ রয়েছে দুধিয়া মালদা আমের। আর ৫০টি গাছ রয়েছে বিহার বিদ্যাপীঠে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement