কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি: সংগৃহীত।
ছাত্র সংসদের খাতে পড়ুয়াদের থেকে আর কোনও ফি নেওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা দফতর যে নির্দেশ দিয়েছে তার প্রেক্ষিতে এই বিজ্ঞপ্তি বলেই খবর।
গত ১ জুন উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, যেহেতু বহু বছর ছাত্র সংসদের কোনও নির্বাচন হয়নি, তাই সংসদও নেই, সে কারণে কোনও ভাবেই পড়ুয়াদের থেকে ইউনিয়ন ফি নেওয়া যাবে না। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে অধিকাংশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নেই, তাই এই খাতে কোনও ফি নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, সংসদের তহবিলে যে পরিমাণ অর্থ রয়েছে, তা অন্য কোনও খাতে খরচ করা যাবে না বলেও জানানো হয়। দফতর থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে সেই সব টাকার হিসাব দাখিল করতে হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে সব রিপোর্ট না পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, শেষবারের মতো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সাল নাগাদ। বিক্ষিপ্ত ভাবে যাদবপুর প্রেসিডেন্সি-সহ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সাল নাগাদ। তার পর আর কোনও নির্বাচন হয়নি। কিন্তু তারপরেও এই ফি নেওয়া হয়েছে এবং সংসদের নাম করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা অনুষ্ঠানও হয়েছে। সেই সব অর্থের উৎস নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সে কারণে অডিট করার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ শিক্ষা দফতর। সম্প্রতি সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উইয়ে ধরা রাশি রাশি টাকা উদ্ধারের পরে সংসদের অর্থের উৎস নিয়ে ফের জলঘোলা শুরু হয়েছে। বুধবার সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সময়েও এই প্রশ্ন তোলে বিজেপি-র ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। প্রতি বছর কলেজের ফেস্টের টাকা এবং সংসদের নামে চলা নানা অনুষ্ঠানের অর্থ কোথা থেকে আসত, খরচই বা কী ভাবে হত, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদিও কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে যে আগামী এক মাসের মধ্যে উচ্চশিক্ষা দফতরে অডিট রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার এই বিজ্ঞপ্তি জারি করল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বহু কলেজ রয়েছে, তাই সেখানেও এই নিয়ম কার্যকারী হল।