(বাঁ দিকে) নিহত মহিলা সুনীতা। (ডান দিকে) খুনের ঘটনার পর সুনীতার বাড়িতে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত।
তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রাক্তন স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ উঠল এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর বিরুদ্ধে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম সুনীতা। দেবেরাকোন্ডা মহেশ তাঁর প্রাক্তন স্বামী। সুনীতা এবং মহেশ দু’জনেই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। কর্মসূত্রে কানাডা থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই অশান্তি হত। তার পরই দেশে ফিরে আসেন সুনীতা। হায়দরাবাদে ফিরে তিনি মহেশের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেন। মহেশও কানাডা থেকে ফিরে আসেন। তার পর ২০২৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দেশে ফিরে সুনীতা আবার নতুন চাকরিতে যোগ দেন। গত বছরে বিয়ে করেছিলেন তিনি। প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ের খবর পেয়েছিলেন মহেশ। স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়েতে অসন্তুষ্ট ছিলেন তিনি। তাই তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেন। হায়দরাবাদের বনস্থলীপুরমে থাকতেন সুনীতা। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বুধবার দুপুরে বাড়িতে একাই ছিলেন সুনীতা। মহেশ তাঁর সঙ্গে একটি ব্যাগের মধ্যে ছুরি, পেট্রল এবং করাত নিয়ে এসেছিলেন।
সুনীতার বাড়িতে ঢোকেন। তার পর ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, মহেশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় সুনীতার। অভিযোগ, তার মধ্যেই ব্যাগ থেকে ছুরি বার করে আচমকা সুনীতার উপর হামলা চালান মহেশ। সুনীতার শরীরে একের পর এক কোপ বসিয়ে দেন। সুনীতার চিৎকার শুনে পড়শিরা ছুটে আসতেই বাথরুমের ভিতর ঢুকে দরজা আটকে দেন মহেশ। সুনীতার পড়শিরাই মহেশকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় সুনীতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সুনীতার পরিবার জানিয়েছে, ২০২২ সালে মহেশের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। তাঁরা কানাডা চলে যান। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হত। ২০২৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। ২০২৫ সালে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন সুনীতা। পুলিশ সূত্রে খবর, গত বছর মহেশের মায়ের মৃত্যু হয়। সেই সূত্রে হায়দরাবাদে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ থাকায়, পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফলে কানাডা ফিরে যেতে পারেননি মহেশ। আর এই ঘটনার পর থেকেই সুনীতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সুনীতা আবার বিয়ে করে বনস্থলীপুরম এলাকায় থাকছেন। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের সন্দেহ, সুনীতার উপর হামলার আগে রেকি করেছিলেন মহেশ। তাঁকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে জেরা করা হচ্ছে।