(বাঁ দিকে) পঞ্চায়েত প্রধান এবং তাঁর স্ত্রী। (ডান দিকে) এই গাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার চার জনের। ছবি: সংগৃহীত।
রাজস্থানের অজমেরে প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, মা এবং ভাইঝির দেহ উদ্ধার হল একটি অগ্নিদগ্ধ গাড়ি থেকে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরে এই খুন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পঞ্চায়েত প্রধানের প্রথম স্ত্রী এবং তাঁর সন্তানদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাস্তার পাশে একটি খেতের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ গাড়ি দেখতে পেয়েছিলেন স্থানীয়েরা। কাছে যেতেই দেখেন ভিতরে যাত্রী রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, গাড়ির ভিতর থেকে চারটি ঝলসানো দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে অজমের থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে শ্রীরামপুরা গ্রামে।
প্রাথমিক ভাবে এটিকে কোনও দুর্ঘটনা বলে মনে হয়েছিল তদন্তকারীদের। কিন্তু বেশ কয়েকটি সূত্রের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা সুনিশ্চিত হন, এটি দুর্ঘটনা নয়। তার পরই খুনের একটি মামলা রুজু করা হয়। জানা গিয়েছে মৃতেরা হলেন, পঞ্চায়েত প্রধান রাম সিংহ চৌধরি, তাঁর মা, স্ত্রী সূর্যজ্ঞান দেবী এবং ভাইঝি মহিমা চৌধরি। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাম সিংহের দুই বিয়ে। দুই স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে একসঙ্গেই থাকতেন।
২০০৫ সালে সুনীতাকে বিয়ে করেন। তাঁর দুই সন্তান। ২০১৯ সালে সূর্যজ্ঞানকে বিয়ে করেন। এই বিয়েতে আপত্তি ছিল সুনীতার। কিন্তু সেই আপত্তির তোয়াক্কা না করেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন রাম সিংহ। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, মত্ত অবস্থায় প্রতি দিন সুনীতা এবং তাঁর সন্তানদের মারধর করতেন রাম সিংহ। বৃহস্পতিবার অশান্তি চরমে ওঠে। তার পরই রাম সিংহকে সুনীতার ছেলে কুপিয়ে খুন করেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনা সূর্যজ্ঞান দেখে ফেলায় তাঁকে খুন করা হয়। চেঁচামেচির শব্দ শুনে রাম সিংহের মা ও ভাইঝি বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁদেরও কোপানো হয় বলে অভিযোগ। তার পর প্রমাণ লোপাট করতে একটি গাড়িতে চাপিয়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে সেই গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।