BRICS Meeting in Delhi

দিল্লিতে ‘ব্রিক্‌স’ সম্মেলনে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি-উদ্বেগ! বৈঠকে থাকবেন মস্কো, তেহরানের বিদেশমন্ত্রীরা

ব্রিক্‌স’-এর বৈঠকে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বৈঠকে। ইরান এবং রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীরা বুধবারই পৌঁছে গিয়েছেন দিল্লিতে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১১:২৪
Share:

(বাঁ দিকে) রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

দিল্লিতে দু’দিনের ‘ব্রিক্‌স’ সম্মেলেন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি-উদ্বেগ। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘ব্রিক্‌স’-এর বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। আন্তর্জাতিক এই গোষ্ঠী ভারত, রাশিয়া, চিনের পাশাপাশি রয়েছে ইরানও। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যে ভারতে পৌঁছে গিয়েছেন। উদ্ভূত কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে আরাঘচির উপস্থিতি এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক এই জোটে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর আমেরিকার ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুড়েছিল তেহরান। এ অবস্থায় দু’দিনের এই বৈঠকে কী কী বিষয় উঠে আসে, তা নিয়ে কৌতূহল বৃদ্ধি পেয়েছে কূটনৈতিক মহলে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন সময়ে ‘ব্রিক্‌স’ প্রসঙ্গে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। শুল্কনীতি নিয়ে সংঘাতের জেরে ‘ব্রিক্‌স’কে ‘আমেরিকাবিরোধী’ বলেও আক্রমণ শানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ঘটনাচক্রে, দিল্লিতে ‘ব্রিক্‌স’-এর এই বৈঠকও এমন একটি সময়ে হচ্ছে যখন ট্রাম্প চিন সফরে গিয়েছেন। ট্রাম্পের সফরের কারণে চিনা বিদেশমন্ত্রী ‘ব্রিক্‌স’-এর বৈঠকে থাকতে পারছেন না। তাঁর বদলে থাকবেন চিনা রাষ্ট্রদূত শি ফেইহং।

‘ব্রিক্‌স’-এর বৈঠকে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বৈঠকে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি বুধবার বেশি রাতের দিকে দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সার্গেই লাভরভও বুধবার সন্ধ্যায় পৌঁছে গিয়েছেন দিল্লিতে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বুধবার দেখাও করেন তিনি। ওই বৈঠকেও জ্বালানির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। লাভরভের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে জয়শঙ্কর জানান, এই অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতার মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং তার জেরে হরমুজ় প্রণালীতে তৈরি হওয়া অস্থিরতার ফলে গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যে দেশগুলি অন্যের কাছ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করে, তাদের উপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও। এ অবস্থায় পশ্চিম এশিয়ার এই পরিস্থিতি বৃহস্পতি-শুক্রের বৈঠকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে ব্রাজ়িল, রাশিয়া, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীটি গঠিত হয়েছিল। পরে জোটের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এখন মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, ইন্দোনেশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও এই জোটের মধ্যে রয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement