দুর্ঘটনার পর অগ্নিদগ্ধ সেই বাস। ছবি: সংগৃহীত।
আবার সেই অন্ধ্রপ্রদেশ। আবার সেই যাত্রিবাহী বাসে আগুন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের মার্কাপুরম জেলায় লরির সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কায় আগুন ধরে গেল বাসে। যাত্রীদের অনেকেই নামার সুযোগ পেলেন না। বাসের ভিতরে আটকে ঝলসে মৃত্যু হল অন্ততপক্ষে ১৪ জনের। আহত আরও ২৩ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মার্কাপুরমের ডেপুটি পুলিশ সুপার নাগরাজু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘অন্ততপক্ষে আট জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।’’ তবে স্থানীয় সূত্রের খবর, অন্ততপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা নাগাদ তেলঙ্গানার নির্মল থেকে অন্ধ্রের নেল্লোরে যাচ্ছিল বাসটি। মার্কাপুরমের কাছে একটি লরির সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পরমুহূর্তেই বাসে আগুন লেগে যায়। যাত্রীরা ভিতরে আটকে পড়েন। অনেকে বাসের জানলার কাচ ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারলেও সেই মুহূর্তে সকলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বাসের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিতরেই ঝলসে মৃত্যু হয় অনেকের। স্থানীয়েরাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। তার পর পুলিশ এবং দমকল এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
এই দুর্ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। জেলা প্রশাসনকে পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। আহতদের যাতে চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা করা হয়, তারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, এই দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে বলেও জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে এই অন্ধ্রপ্রদেশেই যাত্রিবাহী বাসে আগুন ধরে ২০ জনের ঝলসে মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনাস্থল ছিল কুর্নুল। বাসটি হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু যাচ্ছিল। তাতে মোট ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। একটি বাইকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বাসে আগুন ধরে গিয়েছিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেই বাসে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তেলের ট্যাঙ্ক ফেটে যাওয়ায় গোটা বাসটি আগুনের গ্রাসে চলে যায়। বৃহস্পতিবার অন্ধ্রের মার্কারপুরমের ঘটনা সেই স্মৃতিকে উস্কে দিল। সংঘর্ষের পর কি তেলের ট্যাঙ্ক ফেটে গিয়েছিল? তার জেরেই কি দ্রুত আগুন ছড়িয়েছে বাসে? এই সব দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।