তিস্তা নদী। —ফাইল চিত্র।
তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহযোগিতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল চিন। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন জানিয়েছেন, চিন এবং বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনও পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আবার এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনও পক্ষ প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বেজিঙে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র। সেখানেই তাঁকে তিস্তা চুক্তিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, “তিস্তা নদীর সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কার হল একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পে চিন তার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোর ক্ষেত্রে সমন্বয় আরও বাড়াতে চায় চিন। অর্থনীতি, বাণিজ্য, জলসম্পদ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে চিন পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে প্রস্তুত।”
বাংলাদেশের নয়া সরকারের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তিস্তা প্রকল্প। গত সপ্তাহেই তিন দিনের জন্য চিন সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের বৈঠকেও এই প্রকল্পের বিষয়টি উত্থাপিত হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে অবশ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি দুই দেশ।
তিস্তা নিয়ে যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ নিয়েছে, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অফ তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১০২ কিলোমিটার নদীখাত খনন করে তিস্তার গভীরতা বৃদ্ধি, নদীর দু’পাশে ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধের মতো বেশ কিছু কাজ। চিন যদি এই প্রকল্পে নাক গলায়, তা হলে ভূকৌশলগত ভাবেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল চিনের নিশানার মধ্যে চলে আসবে। সম্প্রতি খলিলুর জানিয়েছেন, তিস্তা চুক্তির প্রযুক্তিগত দিকগুলি নিয়ে সমীক্ষা করবেন চিন এবং বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞেরা।
ঘরোয়া ভাবে ভারত জানিয়েছে, চিনের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লির নিরাপত্তা-স্বার্থের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরেই চিনের তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহের বিষয়টি ভারতের কাছে উদ্বেগজনক, কারণ এটি বাস্তবায়িত হলে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলবে ড্রাগন। নয়াদিল্লি মনে করে, সেটাই আসল উদ্দেশ্য চিনের। আর সেই কারণে চিনের পাশাপাশি ভারতও ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরে তিস্তার সংরক্ষণে এবং প্রকৌশলগত সহায়তার ক্ষেত্রে হাত বাড়িয়েছিল। হাসিনার সরকার তিস্তা মহাসেচ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভার ভারতকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে সবই কার্যত ভেস্তে যায়।