কেন মাঝেমধ্যেই পেটের ব্যথায় ভোগে শিশু, অবহেলা করলে কী বিপদ হতে পারে? ছবি: ফ্রিপিক।
শিশু প্রায়ই পেটের ব্যথার কথা বলে। অথবা খাবার খাওয়ার পর পরই বাথরুমে যাওয়াটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বাবা-মায়েরা অনেক সময়েই ভাবেন, সাধারণ কোনও পেটের সমস্যা। হালকা খাবার খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। অথবা ডায়েরিয়া বা আমাশয় ভেবে সেই অনুরূপ ওষুধও খাইয়ে দেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা সহজ না-ও হতে পারে। শিশুটি হয়তো অন্ত্রের বা পেটের এমন কোনও মারাত্মক সমস্যায় ভুগছে যা সাধারণত বড়দের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।
শিশুর মাঝেমধ্যেই পেটে ব্যথা, বারে বারে মলত্যাগের বেগ আসার কারণ সাধারণ পেটের রোগ নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, ছোটরাও আইবিডি বা ‘ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজ়িজ়’-এ আক্রান্ত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলে ‘পেডিয়াট্রিক আইবিডি’।
আইবিডি কী?
পরিপাকতন্ত্র বা পাচনতন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত সমস্যা হল আইবিডি। সাধারণত কেটেছড়ে যাওয়া, পুড়ে যাওয়া, কিডনির সমস্যা বা পেটের ক্রনিক রোগ থাকলে তার শারীরবৃত্তীয় বদল ঘটে। কিন্তু আইবিডির ক্ষেত্রে তেমন হয় না। এ ক্ষেত্রে অন্ত্রের দেওয়ালে ক্ষত হয় না, টিউমার গজানোর আশঙ্কাও থাকে না। তাই আইবিডি অন্ত্রের গঠনগত ত্রুটিজনিত কোনও রোগ নয়। এটি কেবলমাত্র ‘ফাংশনাল ডিজ়অর্ডার’। পরীক্ষায় অনেক সময়েই ধরা পড়ে না। রক্তপরীক্ষা, পেটের আলট্রাসোনোগ্রাফি, কোলোনোস্কোপি, সিটি স্ক্যানেও রিপোর্ট স্বাভাবিক আসতে পারে।
খাবার পরিপাক, তার হজম প্রক্রিয়া সবটাই নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। তাই সেখান থেকে সঙ্কেত এলেই হজম ও নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটে। যদি এই প্রক্রিয়াটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা হলেই খাবার হজম হওয়া ও মলত্যাগের বেগ আসার মধ্যে কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। প্রায়শই দেখা যায় পরীক্ষার আগে উৎকণ্ঠা হলে বা ভয় পেলে, আতঙ্কে ভুগলেও এমন সমস্যা হতে পারে।
শিশুদের আইবিডির কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন—
১) ডায়েরিয়া সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলতে পারে। ওষুধেও সারবে না।
২) মলত্যাগের সময়ে রক্ত, মিউকাস বা পুঁজ আসতে পারে। তেমন হলে অবহেলা করলে চলবে না।
৩) ঘন ঘন পেটে ব্যথা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, শারীরিক বৃদ্ধি ঠিকমতো না হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
৪) রক্তাল্পতা, বমি ভাব, মাঝেমধ্যেই জ্বর আসতে পারে।
৫) শিশুটি সারা ক্ষণ ক্লান্ত বা অবসন্ন বোধ করতে পারে। স্কুল থেকে ফিরেই ঘুমিয়ে পড়া বা খেলাধুলোয় অনীহা প্রকাশ করা এর লক্ষণ। পছন্দের খাবারও খেতে চাইবে না শিশু।
এমন সব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। নিজে থেকে কোনও ওষুধ খাওয়ানো বা ঘরোয়া টোটকার প্রয়োগ বিপজ্জনক হতে পারে।