পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গেলেন কট্টর আলফা জঙ্গি রংমন গগৈ ওরফে মেকুরি।
গত কাল গভীর রাতে তিনসুকিয়া জেলার বরদুমসার এই ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, এক নম্বর তলাপাথার গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আলফা জঙ্গিরা ঘাঁটি গেড়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর মিলেছিল। ওই খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে হানা দেয়। দুই তরফে গুলির লড়াইয়ের পরে রংমনের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে একটি একে-৮১ রাইফেল, তিনটি ম্যাগাজিন মিলেছে। ওই ঘটনার বিষয়ে তিনসুকিয়া জেলার এসপি মুগ্ধজ্যোতি মহন্ত জানান, আলফা স্বাধীন জঙ্গি সংগঠনের ‘জেব্রা-১’ ইউনিটের এই সদস্য গত বছর তিনসুকিয়ার কাকপথার থানা আক্রমণের ঘটনায় জড়িত ছিল।
অন্য দিকে, চলতি মাসের প্রথমে গোয়ালপাড়া জেলার দুধনৈ-বিস্ফোরণের ঘটনায় আলফার এক লিংকম্যানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অসম-মেঘালয় সীমাবর্তী জিটুকোনা থেকে ধরা পড়ে মুকুন্দ রাভা নামে ওই ব্যক্তি। ধৃত ওই জঙ্গি পুলিশের জেরায় জানিয়েছে, ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দুধনৈ চারিয়ালিতে সে বোমাটি রেখে এসেছিল।
পাশাপাশি, ধৃত প্রাক্তন এএনভিসি জঙ্গি টেংগ্রাক সাংমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিম খাসি পাহাড়ের খালুর জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে স্টিলা সাংমা ও তার মেয়ে নোসাঞ্চি সাংমাকে গ্রেফতার করেছে মেঘালয় পুলিশ। তারা বেশ কিছু অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল। পুলিশ একটি এ কে ৪৭ রাইফেল, দু’টি একনলা বন্দুক, দু’টি একে ম্যাগাজিন, ৩৬টি কার্তুজ উদ্ধার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মেঘালয়ে একটি নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে ওঠার খবর মিলেছে। ওই জঙ্গি সংগঠনের নাম ইউনাইটেড পিপলস রেভেলিউশনারি অ্যালায়েন্স। তাদের জেরা করে দক্ষিণ গারো হিলের রংচেং এলাকায়ও পুলিশ তল্লাশি চালায়।
পুলিশ জানায়, সেখান থেকে একটি এসএলআর রাইফেল, তিনটি .৩০৩ বোরের স্নাইপার রাইফেল, একটি একে ম্যাগাজিন, দু’টি এসএলআর ম্যাগাজিন, তিনটি চিনা গ্রেনেড, দেড়শোরও বেশি বিভিন্ন বোরের গুলি, লেটারপ্যাড, লিফলেট, ওষুধ, সিরিঞ্জ ইত্যাদি মিলেছে।
পাশাপাশি, জিএনএলএ সংগঠনের দুই সশস্ত্র জঙ্গিকে গ্রেফতার করে মেঘালয় পুলিশ জানতে পেরেছে, সংঘর্ষবিরতিতে থাকা নাগা জঙ্গি সংগঠন এনএসসিএন-আইএম গারো পাহাড়ে জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। তারাই জিএনএলএ ও আসাক জঙ্গিদের গত চার বছর ধরে নাগাড়ে অস্ত্র পাঠাচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই সব অস্ত্রগুলির মধ্যে আছে এ কে সিরিজের রাইফেল, পিস্তল, গ্রেনেড, এমনকী লাইট মেশিনগানও। ডিমাপুর থেকে অসম হয়েই অস্ত্রগুলি মেঘালয়ে ঢুকেছে।