নরেন্দ্র মোদী।
লকডাউনের ফলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের নানা প্রান্তে ওষুধ সরবরাহে যে কিছুটা হলেও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা কার্যত আজ মেনে নিল কেন্দ্র।
আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে ওষুধের সমস্যা নিয়ে সরব হন একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। জবাবে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানান, দরকারি ওষুধের যথেষ্ট জোগান এই মুহূর্তে ভারতের কাছে রয়েছে। আশঙ্কা করার কোনও কারণ নেই। কিন্তু পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে দেশের কিছু প্রান্তে ওষুধের ঘাটতির কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়ে বলা হয়, যেখান থেকে অভিযোগ আসছে সেখানে দ্রুত ওষুধ পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে। লকডাউনের ফলে কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালু রয়েছে। লকডাউনের ফলে ওষুধ উৎপাদন অনেকটাই কমেছে বলে দু’দিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লাকে চিঠি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের ওষুধ দফতরের সচিব পি ডি বাঘেলা। তিনি স্বরাষ্ট্রসচিবকে জানান, বহু কারখানা বন্ধ। শ্রমিকেরা কাজে আসতে পারছেন না। অভাব রয়েছে কাঁচামালের। মোট ক্ষমতার মাত্র ২০-৩০ শতাংশ ওষুধ প্রস্তুত করা যাচ্ছে। ওষুধের উৎপাদন অবিলম্বে স্বাভাবিক গতিতে না হলে দেশে ওষুধ ও চিকিৎসা যন্ত্রের ঘাটতি দেখা যাবে।
আজ একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের রাজ্যে বিভিন্ন জীবনদায়ী ওষুধের অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে বলে সরব হন। একাধিক বিরোধী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন যথেষ্ট সংখ্যায় নেই বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, ভারতে জীবনদায়ী ওষুধের জোগান যথেষ্ট। এ ছাড়া মাস্ক-গ্লাভসের মতো চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর সরবরাহেও যাতে ঘাটতি না থাকে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দেশে ওষুধের ঘাটতি নিয়ে আজ সরব হন সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরিও। তাঁর অভিযোগ, হঠাৎ লকডাউন ঘোষণা করার আগে ওষুধের মতো জরুরি বিষয়গুলি নিয়ে চিন্তা করা উচিত ছিল সরকারের। তা যে হয়নি, তা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মানুষের জীবন ও জীবিকাকে এ ভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে সরকার ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে।