‘ত্রিবেণী’ সঙ্গমে কুম্ভমেলা ঘিরে কড়া নজরদারি পুলিশের। নিজস্ব চিত্র ।
হুগলির ‘ত্রিবেণী’ সঙ্গমে পঞ্চমবর্ষ কুম্ভমেলা। তিন দিনব্যাপি এই মেলা শুরু হবে ১১ ফেব্রুয়ারি। চলবে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অন্তিম দিনে পূণ্যস্নান দিয়ে শেষ হবে এই মেলা।
ইতিমধ্যেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে সাধু-সন্তরা একে একে আসতে শুরু করেছেন এই পূর্ণস্থানে। তাদের জন্য আখাড়া তৈরি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে সাধু-সন্তরা গঙ্গাসাগরে যে পূণ্যস্নানের সূচনা করেন তা ত্রিবেণীতে মাঘীস্নান দিয়ে শেষ হয়।
পুরাণ মতে, সাপে কাটা লক্ষ্মীন্দরকে নিয়ে গঙ্গাবক্ষ দিয়ে স্বর্গে যাওয়ার সময় বেহুলার ভেলা আজকের এই ত্রিবণী ঘাটে দাঁড়িয়েছিল। এক সময় বাণিজ্য বন্দর ছিল এই ত্রিবেণী। অবশ্য তখন এই জায়গার নাম ছিল সপ্তগ্রাম। বর্গী হানায় এখানকার অনেক স্মৃতিচিহ্ন নষ্ট হয়ে গেলেও এখনও নেতাই ধোপানির ঘাটটি রয়েছে। রয়েছে বেশ কিছু প্রাচীন মন্দিরও।
উল্লেখ্য, মাঘ মাসের সংক্রান্তির দিন হবে পূণ্যস্নান। এই স্নানকে কেন্দ্র করেই দু’দিন ধরে চলবে মেলা। এই বছর শিবপুর স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে গীতাযজ্ঞ হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি রুদ্রাভিষেক যজ্ঞ এবং মহাদেবের সহস্রনাম জপ হবে। এর পাশাপাশি আরআর ক্যাম্পে ৫১টি পীঠ কল্পনা করে ধুনি জ্বালাবেন আখড়ার সাধু-সন্তেরা। ১৩ ফেব্রুয়ারি পূণ্যস্নান দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
স্বামী শিবানন্দ মহারাজ বলেন, “আজ থেকে সাধুরা আসতে শুরু করেছেন। আগামী কাল থেকে শুরু হবে কার্যক্রম। তিন দিন ধরে হবে কুম্ভ। ১৩ তারিখ হবে পুণ্যস্নান। ওই দিন রয়েছে ভান্ডারা। সাধুরা গোটা ত্রিবেণী নগর পরিক্রমা করবেন। বুধবার থেকে শুরু হবে যজ্ঞ। পশ্চিমবঙ্গে ১৬টা শক্তিপীঠ রয়েছে। সেখানকার মাটি এবং জল আসবে মঙ্গলবার। প্রয়াগ থেকে আনা হয়েছে জল। এই জল মাটি দিয়েই হবে যজ্ঞ।”
কুম্ভ মেলার স্থান পরিদর্শন করে গিয়েছেন হুগলি (গ্রামীণ)-র পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেন। তিনি বলেন, “কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে প্রচুর মানুষের সমাগম হবে। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ১০০-র বেশি সিসি ক্যামেরায় চলবে কড়া নজরদারি।”