Ajit Pawar Plane Crash

দলে, পরিবারে রাশ কার হাতে

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘দাদা’ বলে পরিচিত অজিত পওয়ারের অকালমৃত্যু মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে সবাইকে একসঙ্গে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৮
Share:

অজিত পওয়ার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এ বার কী?

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘দাদা’ বলে পরিচিত অজিত পওয়ারের অকালমৃত্যু মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে সবাইকে একসঙ্গে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে শরদ পওয়ার ১৯৯৯ সালে এনসিপি তৈরি করেছিলেন। সেই এনসিপি ভেঙে বেরিয়ে শরদের ভাইপো অজিত বিজেপির সঙ্গে জোট করেন। মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফডণবীসের নেতৃত্বে বিজেপির জোট মহায্যুতি সরকারের অন্যতম উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

গত কয়েক মাসে পওয়ার পরিবার তথা এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত মিলছিল। মনে করা হচ্ছিল, দুই এনসিপি মিলে যাবে। শরদ রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। তার পরে অজিতই পুনর্মিলিত এনসিপি-র হাল ধরবেন। জাতীয়স্তরে এনসিপি-র মুখ হবেন শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে। সেই এনসিপি মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে বিজেপির জোটেই থাকবে বলে আন্দাজ করছিলেন রাজনীতির কারবারিরা।

এখন প্রশ্ন, এ বার কি অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা বা দুই ছেলে পার্থ, জয়ের মধ্যে কেউ অজিতের এনসিপি-র হাল ধরবেন? না কি দুই এনসিপি মিলে গিয়ে শরদ পওয়ার-সুপ্রিয়া সুলের হাতেই লাগাম আসবে?

সুনেত্রা রাজ্যসভার সাংসদ হলেও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম। পার্থ, জয়ও নিত্যদিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। আবার সুপ্রিয়ার পক্ষেও ক্ষয়িষ্ণু এনসিপি-কে জোড়া লাগিয়ে তার হাল ফেরানো সম্ভব কি না, প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, অজিতের মতো জনমোহন ব্যক্তিত্ব বা সাংগঠনিক ক্ষমতা সুপ্রিয়ার নেই। তবু শরদ ভাইপোর বদলে কন্যাকে রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী করতে চাওয়ায় বিবাদ শুরু হয়েছিল। সেখান থেকেই দলে ভাঙন। অজিতের আচমকা মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রে মহায্যুতি সরকারও প্রশ্নের মুখে। আশু প্রশ্ন হল, অজিতের জায়গায় এনসিপি থেকে কে উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন? প্রফুল্ল পটেল না কি দলের অন্য কেউ? অজিত রাজ্যের অর্থ, যোজনা দফতরের মন্ত্রীও ছিলেন। সামনেই মহারাষ্ট্রে বাজেট। ফলে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসকে নতুন অর্থমন্ত্রীও খুঁজতে হবে।

মহায্যুতি সরকারের বিজেপির নেতৃত্বে দুই শরিক দল, অজিতের এনসিপি ও একনাথ শিন্দের শিবসেনা। অজিত ও শিন্দে দু’জনেই উপমুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীস অজিতের সাহায্য নিয়ে একনাথ শিন্দেকে লাগামের মধ্যে রাখার চেষ্টা করতেন। কারণ, শিন্দে অনেক বেশি দর কষাকষি করেন। সেই তুলনায় অজিত ছিলেন ফডণবীসের অনেক বেশি আস্থাভাজন। সম্প্রতি দুই এনসিপি ফের পুণে, পিম্পরি ছিঞ্চওয়ার পুরসভায় একসঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপি, কংগ্রেসের থেকে আলাদা ভাবে লড়েছিল। যদিও ভাল ফল করতে পারেনি।

গত লোকসভা নির্বাচনে শরদ পওয়ারের এনসিপি মহারাষ্ট্রের ৪৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১০টি জিতেছিল। অজিতের এনসিপি মাত্র একটি আসন জিতেছিল। আবার বিধানসভা নির্বাচনে অজিতের এনসিপি মহারাষ্ট্রের ২৮৮টি আসনের বিধানসভায় ৪১টি আসন জেতে। শরদের এনসিপি মাত্র ১০টি আসন জিতেছিল। তবে দুই এনসিপি এক হলে মরাঠাওয়াড়া অঞ্চলে বিজেপির দাপট কমতে পারে বলেও গেরুয়া শিবিরের চিন্তা রয়েছে। আবার বিজেপি নেতাদের মতে, এনসিপি-র দুই গোষ্ঠী এক হয়ে মহারাষ্ট্রে মহায্যুতি সরকারে যোগ দিলে শিন্দেকে আরও কোণঠাসা করতে ফডণবীসের সুবিধা হবে। সে ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া জোটে নতুন করে ভাঙন ধরবে বলে কংগ্রেসের চিন্তা বেড়েছে।

পওয়ার পরিবারের গড় বারামতী থেকে রাজনীতি শুরু করে অজিত তার ভোল পাল্টে দিয়েছিলেন। ২০১৯-এ মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনের পরে ত্রিশঙ্কু বিধানসভায় ফডণবীস অজিতকে সঙ্গে নিয়েই ভোররাতে মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু শরদ পওয়ার ভাইপোকে ফিরিয়ে এনে কংগ্রেস-শিবসেনা-এনসিপি-র অভূতপূর্ব জোট তৈরি করেন। সেই জোট সরকারে উদ্ধব ঠাকরের উপমুখ্যমন্ত্রী হন অজিত। ২০২৩-এর জুনে নরেন্দ্র মোদী অজিতের বিরুদ্ধে ৭০ হাজার কোটি টাকার সেচ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তোলেন। কিছু দিনের মধ্যেই অজিতকে এনসিপি ভাঙিয়ে এনডিএ-তে আনেন ফডণবীস। বরাবরই অজিতের পাখির চোখ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর গদি। ছ’বার উপমুখ্যমন্ত্রী হলেও সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন