SCALP cruise missile

অপারেশন সিঁদুরে পাক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছিল নির্ভুল লক্ষ্যে! সেই ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে বরাদ্দ হল ৩২০০ কোটি টাকা

গত বছর প্রথম বার রাশিয়ার ভিতরে হামলা চালাতে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল ইউক্রেনীয় সেনা। তার পরই ‘অপারেশন সিঁদুরে’ পাকিস্তানে জঙ্গিঘাঁটি ওড়াতে ব্যবহার করে ভারতীয় বায়ুসেনা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৯
Share:

স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র। —ফাইল চিত্র।

পহেলগাঁও সন্ত্রাসের জবাবে গত ৭ মে রাতে পাকিস্তানের তিন সন্ত্রাসবাদী ঠিকানায় হানা দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমান। মাত্র ২৫ মিনিটের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ মূল হাতিয়ার ছিল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র স্ক্যাল্প এবং প্রিসিশন গাইডেড বোমা হ্যামার। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরক্ষা ক্রয় বিষয়ক সমিতি’ (ডিফেন্স অ্যাকুইজ়িশন কাউন্সিল বা ডিএসি) এ বার ভারতীয় বিমান বাহিনীর দূরপাল্লার আক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফ্রান্স থেকে আরও দেড়শোটি স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিল।

Advertisement

স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপীয় দুনিয়ায় ‘স্টর্ম শ্যাডো’ নামে পরিচিত। এই দূরপাল্লার ‘আকাশ থেকে ভূমি’ (এয়ার টু সারফেস) ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ‘নির্ভুল’ আঘাত হানতে পারে। রাডার নজরদারি এড়িয়ে গোপনে আঘাত হানার বৈশিষ্ট্যের জন্যও পরিচিত স্ক্যাল্প। টার্বোজেট ইঞ্জিনযুক্ত ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে তিন ধরনের নেভিগেশন সিস্টেম, যা নিখুঁত ভাবে লক্ষ্যবস্তু স্থির করে নির্ভুল নিশানায় হামলা চালাতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী মূলত এই কারণেই স্ক্যাল্প ব্যবহার করে। পাশাপাশি এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট হল দিনে-রাতে এবং সব ধরনের আবহাওয়াতেও ব্যবহার করা যায়।

শুধু তা-ই নয়, শক্ত বাঙ্কার ভেদ করে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে স্ক্যাল্পের। গত বছর প্রথম বার রাশিয়ার ভিতরে হামলা চালাতে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল ইউক্রেনীয় সেনা। তার পরই ‘অপারেশন সিঁদুরে’ পাকিস্তানে জঙ্গিঘাঁটি ওড়াতে ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। অত্যাধুনিক সেন্সর-যুক্ত এই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছোনোর পরে এতে যুক্ত ‘ইমেজিং ইনফ্রারেড সিকার’ নিজে থেকেই লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে যদি মিলে যায় ছবি, তবেই তা ধ্বংস করে। ফলে আশপাশ এলাকার ক্ষতি এড়িয়ে শত্রুঘাঁটি ধ্বংস করা সম্ভব হয়। শুধু তা-ই নয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করাও বিপক্ষের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য। কারণ, যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়ার সময় স্ক্যাল্প খুব নিচু দিয়ে উড়ে যায়, ফলে তা শত্রুদের রেডারে ধরা পড়া প্রায় অসম্ভব। ডিএসির বৈঠকে স্থির হয়েছে, এই দফায় স্ক্যাল্প কেনার জন্য ব্যয় করা হবে ৩২০০ কোটি টাকা।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement