গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দেশের প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি ১ লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ শনিবার বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতে প্রতিরক্ষা বাজেটের অঙ্ক হবে ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার কোটি টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২০২০-২৪ অর্থবর্ষের তুলনায় বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধির হার ছিল ৯.৫৩ শতাংশ। এ বার বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৫.৩ শতাংশ। এ বারের বাজেটে প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লক্ষ ১৯ হাজার কোটি টাকা দেওয়া। গত অর্থবর্ষের তুলনায় ২১ শতাংশেরও বেশি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান অনুসরণ করে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে সমরাস্ত্র উৎপাদনে।
মোদী জমানায় প্রতিরক্ষা বাজেট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
গত বছর অপারেশন সিঁদুর-পর্বে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিতে অপারেশন এবং তার পরবর্তী সংঘাতে অন্য দেশ থেকে কেনা আধুনিক সমরাস্ত্রের পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সমরাস্ত্রেও আস্থা রেখেছে ভারত। গত ১২ মে একটি বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, “এই অভিযানে (অপারেশন সিঁদুর) ভারতে তৈরি অস্ত্রগুলির কার্যকারিতা দৃঢ় ভাবে প্রমাণিত হয়েছে।” অর্থমন্ত্রীর পেশ করা বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ১১ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ছিল জিডিপির ৮ শতাংশ।
বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখায় (স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) ব্যবহৃত অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের ৬৫ শতাংশ দেশে তৈরি হয়। আমদানিতে নির্ভরতা কমিয়ে আগামী দিনে তা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে। এই উদ্দেশ্যে বিমান এবং বিমান ইঞ্জিন নির্মাণের জন্য ৬৩৭৩৩ কোটি টাকা পৃথক বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে। যদিও প্রাক্তন সেনাকর্তাদের একাংশ বলছেন, বাজেটে বেতন এবং পেনশনের জন্য বরাদ্দ ৬.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১.৭১ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। ফলে বাযুসেনার জন্য বাড়তি রাফাল বা স্থলসেনার প্রয়োজনীয় জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র কেনার মতো প্রস্তাবিত পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা কঠিন হবে।