Manipur

মুক্তির দাবি ১৪জন কুকি-জ়োর

গত ১৩ মে সেনাপতি জেলার টাফৌ কুকি গ্রামের ১৩ জন এবং হেংবুং গ্রামের ১ জনকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৯:০৫
Share:

মণিপুরে সেনা বাহিনী। ফাইল চিত্র।

মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে থাকা ১৪ জন কুকি-জ়ো গ্রামবাসীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যেরা। পরিবারের তরফে অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ নিরীহ সাধারণ নাগরিক। কোনও সশস্ত্র কার্যকলাপের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।

গত ১৩ মে সেনাপতি জেলার টাফৌ কুকি গ্রামের ১৩ জন এবং হেংবুং গ্রামের ১ জনকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। এখনও পর্যন্ত তাঁরা নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের জন্য এক যৌথ স্বাক্ষরিত বিবৃতি প্রকাশ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘‘রাজনীতি, সংঘাত বা প্রতিপক্ষের ভাষায় নয়, বরং মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের হৃদয়বিদারক আর্তি নিয়ে আবেদন জানাচ্ছেন।’’ তাঁদের দাবি, ওই আটক ব্যক্তিরা কোনও ধরনের সরকার-বিরোধী আন্দোলন, সশস্ত্র সংগঠন বা সম্প্রদায়গত সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত নন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাঁরা মানসিক আঘাত ও চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের জন্য পরিবারের সদস্যেরা প্রতিটি মুহূর্ত গভীর যন্ত্রণা ও অসহনীয় কষ্টের মধ্যে কাটাচ্ছে।

পরিবারগুলি টাফৌ কুকি, হেংবুং ও নাগা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছে। তাঁদের দাবি, সেনাপতি জেলায় এই গ্রামগুলির মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শান্তি, একে অপরকে সম্মান ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বজায় রয়েছে। আটক গ্রামবাসীরা কোনও আন্দোলনকারী নন এবং বর্তমানে মণিপুরে জাতিগত সংঘর্ষ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করল পরিবারের তরফে। পরিবারের সদস্যেরা প্রশাসনের কাছে সহানুভূতি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আবেদন জানিয়ে তাঁদের স্বজনদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, ‘‘মণিপুরে দ্রুত শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে।’’

মণিপুরে থাডৌ সম্প্রদায়ের খ্রিস্টান নেতাদের হত্যার ঘটনায় আঙুল উঠেছে নাগা জঙ্গি সংগঠন এনএসসিএন আইএমের বিরুদ্ধে। এ দিকে এনএসসিএন অভিযোগ তুলল, মণিপুরের সংঘাতে নাগা গ্রাম ও সাধারণ মানুষ বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। সংগঠন ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে “কুকি মাদক-সন্ত্রাসবাদীদের” সঙ্গে যোগসাজশ এবং নাগা অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। ক্যাম্প হেব্রনে ৭৫ তম নাগা প্লেবিসাইট দিবসের ভাষণে এনএসসিএন আইএম চেয়ারম্যান কিউ টুকু। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী নাগাদের প্রতিরক্ষামূলক বাঙ্কার ভেঙে দিচ্ছে। সেই সুযোগে কুকিরা নাগা সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী নাগা এলাকায় সক্রিয় কুকি জঙ্গিদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তাও দিচ্ছে। তিনি টাংখুল নাগা অধ্যুষিত নামলি, ওয়াংলি এবং চোরো গ্রামের ওপর হামলার কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, এই হামলাগুলি “মায়ানমার-ভিত্তিক কুকি জঙ্গিরা” চালিয়েছে। সীমান্তের ও-পার থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি কীভাবে নাগা গ্রামে হামলা চালাতে পারল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এনএসসিএন আরও অভিযোগ করে যে ভারত সরকার নাগাদের বিরুদ্ধে “প্রক্সি বাহিনী” হিসেবে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিয়ম এবং নাগা অধিকারের পরিপন্থী বলে সংগঠনটির দাবি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন