West Bengal Governor

‘উনি যেখানেই যান, সেখানেই সংবিধান, গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়’! পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপালকে নিয়ে মত ‘ভুক্তভোগী’ ডিএমকের

গত সাড়ে চার বছর ধরে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে ছিলেন রবি। ওই সময়ে সে রাজ্যের ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১৬:০১
Share:

(বাঁ দিকে) আরএন রবি এবং এমকে স্ট্যালিন (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল আরএন রবিকে কটাক্ষ তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে-র। শুক্রবার ওই দলের রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসন সমাজমাধ্যমে রবিকে খোঁচা দিয়ে লেখেন, “উনি যেখানেই যান, সেখানেই সংবিধান, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং তৃণমূলে থাকা ভাল বন্ধুদের জন্য আমার খারাপ লাগছে।”

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত সাড়ে চার বছর ধরে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে ছিলেন রবি। বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, রবি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হচ্ছেন।

তামিলনাড়ুতে এমকে স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে গত কয়েক বছরে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি। গত বছর স্বাধীনতা দিবসে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবির চা-চক্রে অংশ নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন। ২০২৩ সাল থেকে রাজভবনে সেই চা-চক্র বয়কট করে চলেছে স্ট্যালিনের সরকার। কয়েক বছর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রাজ্যপালকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। চলতি বছরের শুরুতে তামিলনাড়ু বিধানসভায় জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার অভিযোগ তোলেন রাজ্যপাল রবি। সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না-করেই ছাড়েন অধিবেশন।

Advertisement

এই সূত্রেই রবিকে আক্রমণ করে ডিএমকে সাংসদ জানান, তামিলনাড়ু নিয়ে বিজেপির মনোভাবের প্রতিফলন ঘটত সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপালের কার্যকলাপে। এই সূত্রেই তাঁর সংযোজন, “এই ভেবে খারাপ লাগছে যে, আসন্ন নির্বাচনে ডিএমকে এক জন তারকা প্রচারক (রবি)-কে হারাল।” প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন হবে তামিলনাড়ুতে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে বৃহস্পতিবারই ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। তার পরেই রাজ্যপাল পদে রবিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। ভোটের আগে এই নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

রবির জন্ম পটনায়। ১৯৭৪ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। ১৯৭৬ সালে ভারতীয় পুলিশ কৃত্যকে (আইপিএস)-এ যোগ দেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-এর দায়িত্বও সামলেছিলেন রবি। তদন্তকারী অফিসার হিসাবে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি দমন অভিযানে অংশ নেন। দেশের গোয়েন্দা বিভাগ (আইবি)-এ কাজ করার সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় বিদ্রোহ দমন করেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ায় অভিবাসন নিয়ে বিশেষ জ্ঞান রয়েছে তাঁর। দেশের বহু সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মূলস্রোতে ফিরিয়েছেন রবি। সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে গোপন তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement