রাহুর নাম শুনলেই মানুষজন আঁতকে ওঠেন। কারণ শাস্ত্রমতে রাহু
অশুভ গ্রহ। রাহুর দশা মানুষের মনে ভীতির সৃষ্টি করে। যদিও বাকি গ্রহের ন্যায় রাহুও
সুফল প্রদান করে। কিন্তু রাহুর কুফল এতটাই মারাত্মক হয় যে তাঁকে সমঝে চলা ছাড়া আর
উপায় নেই।
শাস্ত্রমতে, প্রতি দিনের সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে
আট ভাগে ভাগ করা হয়। তার মধ্যে অষ্টম অংশের অধিপতি হলেন রাহু। নিত্য দিনের একটি
নির্দিষ্ট সময়কাল রাহুকাল নামে পরিচিত। এই সময় কোনও শুভ কাজ করা অনুচিত বলে
জানাচ্ছে শাস্ত্র। প্রায় ৯০ মিনিট স্থায়ী হয় এই রাহুকাল। সেই সময় জন্মানো ব্যক্তিদের
মধ্যে দেখা যায় বিশেষ কিছু দিক। তা যে কেবল খারাপ তেমনটা নয়। কিন্তু খারাপ কিছু
দিক অবশ্যই রয়েছে। তা থেকে নিস্তার পাওয়ার উপায়ও শাস্ত্রে বলা রয়েছে। সে সম্বন্ধে
জেনে নিন।
রাহুকালে জন্মানো ব্যক্তিদের মধ্যে কী দেখা যায়?
- জ্যোতিষমতে, রাহু হল ভোগ-বিলাস, আধুনিকতা এবং পার্থিব সুখের
কারক। সেই কারণে এই সময়ে জন্মানো জাতক-জাতিকার মধ্যে ছোট বয়স থেকেই আরাম, বিলাসিতা
প্রভৃতির প্রতি টান থাকতে দেখা যায়।
- এঁদের জীবনে সব কিছুই হঠাৎ করে হয়। পরিস্থিতির আকস্মিকতায়
এঁরা ঘাবড়ে যান। সফলতাও যেমন হঠাৎ করে আসে, তেমনই ক্ষতিও হয় আচমকা। কিছু বুঝে
ওঠার আগেই জল অনেক দূর গড়িয়ে যায়।
- রাহুর কৃপা সঙ্গে থাকলে সমাজে এঁরা উচ্চ স্তরে পৌঁছোন।
নাম-যশ কামাতে পারেন।
- কোষ্ঠীতে রাহু খারাপ স্থানে থাকলে সমস্যা বেশি হয়। মনের মধ্যে
অকারণে একটা ভয় কাজ করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগের মতো সমস্যায় ভুগতে দেখা
যায় বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র।
- এ সমস্ত জাতক-জাতিকার মধ্যে অজানাকে জানার প্রবল কৌতূহল
দেখা যায়, যা এঁদের উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
রাহুকে শান্ত রাখার উপায়:
রাহুকালে জন্ম নেওয়া মানে যে কেবল খারাপই হবে এ ধারণা
সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। এর ফলে ভালও হতে পারে। সফলতা প্রাপ্তিতে সাহায্য করে রাহু।
কিন্তু তার জন্য কোষ্ঠীতে রাহুর স্থান ভাল থাকা জরুরি। সেই কারণে মানা যেতে পারে
বিশেষ কিছু টোটকা।
- রাহুকে তুষ্ট করতে প্রতি মঙ্গলবার এবং শনিবার রাহুর
বীজমন্ত্র ১০৮ বার করে জপ করতে হবে। এরই সঙ্গে শনিবার করে উপবাস রেখে মহাদেবের
উপাসনা করতে পারলে খুব ভাল হয়।
- দরিদ্রদের কালো তিল, সর্ষের তেল প্রভৃতি দান করা যেতে পারে।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। নিয়মিত স্নান করুন। নিজের
বাহ্যিক সৌন্দর্যের দিকে নজর দিন। সুতির পোশাক বেশি করে ব্যবহার করুন। রাহু এতে
তুষ্ট হন বলে মনে করা হয়। নিজেকে পরিষ্কার রাখার সঙ্গে সঙ্গে ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও
গুছিয়ে রাখার দিকেও নজর দিন। অগোছালো, অপরিষ্কার ঘরবাড়ি রাহু
মোটেই পছন্দ করেন না। এতে ভাগ্যের উপর কুপ্রভাব পড়ে।