Lok Sabha Speaker Om Birla

‘পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলবেন না সংসদকে’! স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা বিতর্কে তৃণমূল দাঁড়াল রাহুলের পাশে

বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার স্পিকার বিড়লার ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের’ উদাহরণ দিতে গিয়ে বললেন, ‘‘যখনই আমরা দাঁড়িয়ে কথা বলতে যাই, আমাদের থামিয়ে দেওয়া হয়।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ১৭:১২
Share:

(বাঁদিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ওম বিড়লা এবং রাহুল গান্ধী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শাসক শিবিরের প্রতি ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের’ অভিযোগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কে বুধবার উত্তপ্ত হল অধিবেশন। সেই সঙ্গে দেখা গেল বিরোধী শিবিরের দুই দল, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের একযোগে সরকার ও চেয়ার (স্পিকার)-কে আক্রমণ!

Advertisement

বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার স্পিকার বিড়লার ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের’ উদাহরণ দিতে গিয়ে বললেন, ‘‘যখনই আমরা দাঁড়িয়ে কথা বলতে যাই, আমাদের থামিয়ে দেওয়া হয়।’’ অন্য দিকে, তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের মন্তব্য, ‘‘সংসদে প্রায় কোনও গণতন্ত্র অবশিষ্ট নেই। কারণ, বিরোধীদলের সদস্যদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। আমাদের যদি নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করতে হয়, তা হলে জনগণের জন্য কী ভাবে লড়াই করব!’’ সেই সঙ্গে সরকারপক্ষের উদ্দেশে যাদবপুরের সাংসদের মন্তব্য, ‘‘পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলবেন না সংসদকে।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘সংসদ এখন নীতি-নির্ধারণকারী মঞ্চ নয়, একটি বিজ্ঞাপনী মঞ্চে পরিণত হয়েছে।’’

বুধবার অনাস্থা বিতর্কের দ্বিতীয় দিনে বিজেপির রবিশঙ্কর প্রসাদ জানান, বিরোধী দলনেতা রাহুলের উচিত জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে খুব মেপে কথা বলা। স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকে ‘বেদনাদায়ক’ বলে জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে নাম না করে রাহুলকে নিশানা করেন তিনি। রবিশঙ্কর বলেন, ‘‘স্পিকারকে পদ থেকে সরানোর প্রস্তাব কোনও নেতার অহঙ্কার তুষ্ট করার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।’’ জবাবে রাহুল বলেন, ‘‘লোকসভা কোনও এক দলের নয়। সমগ্র দেশের। কিন্তু যখনই আমরা দাঁড়িয়ে কথা বলতে যাই, আমাদের থামিয়ে দেওয়া হয়।’’

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তৃণমূল সাংসদ সায়নী তাঁর বক্তৃতায় নাম করে রাহুল এবং সমাজবাদী পার্টির সাং‌সদ অখিলেশ যাদবের বক্তৃতায় বাধাদানের অভিযোগ তুলেছেন সরকারপক্ষ এবং স্পিকার বিড়লার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘‘রেলওয়ে বাজেট বন্ধ করা হয়েছে, বিলগুলি মধ্যরাতে পেশ করা হচ্ছে। রাহুল গান্ধী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব কোনও বই উদ্ধৃত করতে পারছেন না। কিন্তু তাদের ‘প্রিয় ছেলেটিকে’ সেই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।’’ প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ নরবণের অপ্রকাশিত বই থেকে রাহুল চিনা আগ্রাসন সম্পর্কিত কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করতে গেলে বাধা দেন স্পিকার বিড়লা। জানান, সংসদীয় বিধি অনুযায়ী কোনও বই বা সংবাদপত্র উদ্ধৃত করা যাবে না। অথচ বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে তাঁর বক্তৃতায় বিনা বাধায় একের পর এক বই থেকে ‘গান্ধী-নেহরু পরিবারের দুর্নীতি’ সম্পর্কিত নানা মন্তব্য উদ্ধৃত করেছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement