প্রবল গরম, তার উপর বৃষ্টি নেই— সব মিলিয়ে দেশের দশ রাজ্যের ২৫৬টি জেলায় জলের অভাবে হাঁসফাঁস দশা। সেই তালিকায় জুড়ল হায়দরাবাদের নামও। গত ৩০ বছরে প্রথম জলের জন্য জরুরি অবস্থা জারি হল তেলঙ্গানার রাজধানীতে। তবে এই তীব্র আকালের দিনেই রাজনীতিকদের সফরের পিছনে জল নষ্টের খামতি নেই। মন্ত্রীরা খরা কবলিত এলাকায় যাবেন বলে মহারাষ্ট্রের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে ঢেলে নষ্ট করা হয়েছিল ১০,০০০ লিটার জল। এ বার একই ছবি কর্নাটকেও। ধুলো যাতে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সফর বানচাল না করে দেয়, তাই খরা আক্রান্ত বাগলকোটে কাল স্রেফ মাটিতে ঢেলে ফেলা হয়েছে ৫০০০ লিটার জল।
দেশের খরা পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মুখ পুড়েছে কেন্দ্রের। যে ভাবে পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে তার সমালোচনা করে বিচারপতিরা বলেন, জলকষ্ট সম্পর্কে রাজ্যগুলিকে সতর্ক করে দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রেরই। তবে খরা চিত্র যে ভাবে প্রকট হচ্ছে দিকে দিকে, এত দিন পর সমালোচনার মুখে পড়েও পরিস্থিতি যে বিশেষ পাল্টাবে না হায়দরাবাদের ছবিতেই আজ ফের স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে তা। মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও-এর ছেলে কে টি রাম রাও সেখানকার পুরমন্ত্রী। তিনি এ দিন জানান, ওই এলাকায় চারটি জলাধারই শুকনো। হায়দরাবাদ শহরে জলের চাহিদা আর জোগানের মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে ৪৭ শতাংশে।
যে সব এলাকায় জলসঙ্কট সব চেয়ে বেশি, তার মধ্যে অন্যতম মহারাষ্ট্রের মরাঠওয়াড়া। সেখানে জল কষ্ট সামাল দেওয়ার কিছু চেষ্টা অবশ্য শুরু হয়েছে ক’দিন আগে থেকেই। লাতুরে এত দিন দশ ওয়াগনের ট্রেনে করে জল পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল রেল। আজ সেখানে ২৫ লাখ লিটার জল নিয়ে পৌঁছেছে ৫০ ওয়াগনের এক বিশাল ট্রেন। এর ফলে
পানীয় জলের সমস্যার কিছুটা সুরাহা হলেও মরাঠওয়াড়ার আটটি এলাকার ১১টি প্রধান বাঁধ এখনও খাঁ খাঁ করছে। সেচ মন্ত্রকের এক কর্তা জানিয়েছেন বাঁধে মোটে ৩% জল অবশিষ্ট রয়েছে। ফলে জলাধার থেকে জল ছাড়া অসম্ভব।