প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর পর গুজরাতে কত জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তার নতুন পরিসংখ্যান দিল নির্বাচন কমিশন। তিন মাস ধরে এসআইআর চলার পর মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই দিনই জানা গিয়েছিল কত জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তবে তালিকায় কিছু সংযোজন-বিয়োজনের পর শুক্রবার নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে কমিশন।
নতুন পরিসংখ্যান অনুসারে, গুজরাতে এসআইআর শুরু হওয়ার সময় ভোটার তালিকায় ৫ কোটি ৮ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৩৬ জন ভোটারের নাম ছিল। এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে এই সংখ্যাটা কমে ৪ কোটি ৪০ লক্ষ ৩০ হাজার ৭২৫ হয়েছে। বাদ পড়েছে ৬৮ লক্ষ ১২ হাজার ৭১১ জন ভোটারের নাম।
মঙ্গলবারই গুজরাতের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতর জানিয়েছিলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৪ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকার তুলনায় এ বার আরও ৫ লক্ষ ৬০ হাজার নতুন নাম যোগ হয়েছে। আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় ৭৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে ভোটার সংখ্যা ৫ কোটি ৮ লক্ষ থেকে কমে ৪ কোটি ৩৪ লক্ষে নেমে এসেছিল। সিইও দফতর জানায়, পরে ৫ লক্ষ ৬০ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় চূড়ান্ত তালিকায় ৪ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে। শুক্রবার গুজরাতের ভোটার তালিকার সবিস্তার এবং নতুন পরিসংখ্যান দিল কমিশন।
লক্ষদ্বীপ এবং পুদুচেরির ভোটার তালিকারও নতুন পরিসংখ্যান দিয়েছে কমিশন। এসআইআর শুরু হওয়ার সময় লক্ষদ্বীপের ভোটার তালিকায় ৫৭ হাজার ৮১৩ জনের নাম ছিল। এসআইআর-এর পর তা কমে ৫৭ হাজার ৬০৭ হয়েছে। বাদ গিয়েছে ২০৬ জনের নাম। পুদুচেরির ক্ষেত্রে আগে ১০ লক্ষ ২১ হাজার ৫৭৮ জনের নাম ছিল। এখন তা কমে ৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ২১১ হয়েছে। বাদ গিয়েছে ৭৭ হাজার ৩৬৭ জনের নাম।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় ‘আপডেটেশন’-এর কাজ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত যে কেউ ফর্ম ৬ (ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য), ফর্ম ৭ (নাম বাদ দেওয়ার জন্য), ফর্ম ৮ (পরিবর্তনের জন্য) জমা দিতে পারেন।
ইতিমধ্যেই বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া এবং অসমে বিশেষ সংশোধন (এসআর)-এর কাজ শেষ হয়েছে। এসআইআর-এর কাজ চলা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, কেরল, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা।