Hit-and-Run Case in Delhi

দিল্লিতে বেপরোয়া গতির বলি ছ’বছরের শিশু! আহত ঠাকুরমার দাবি, দুর্ঘটনার পর কেউ সাহায্য করেননি

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম দিল্লির জনকপুরী এলাকায়। ছ’বছরের নাতনির মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছেন তার ৫৭ বছর বয়সি ঠাকুমা মার্সি জ়েভিয়ার। হাসপাতালে বেডে শুয়ে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বার বার কেঁপে উঠছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৯
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রিকশায় চেপে ঠাকুমার সঙ্গে যাচ্ছিল ছ’বছরের শিশুকন্যা। আচমকা দ্রুতগামী এক গাড়ির ধাক্কা। রাস্তায় ছিটকে পড়ায় গুরুতর জখম হয় শিশুটি। চোট লাগে তার ঠাকুরমারও। তাঁর দাবি, ওই অবস্থাতেও নাতনিকে বাঁচানোর জন্য সকলের কাছে সাহায্যের আর্জি জানান। কিন্তু কেউ সাড়া দেননি। পরে কিছু লোক এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশুটির।

Advertisement

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম দিল্লির জনকপুরী এলাকায়। ছ’বছরের নাতনির মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছেন তার ৫৭ বছর বয়সি ঠাকুমা মার্সি জ়েভিয়ার। হাসপাতালে বেডে শুয়ে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বার বার কেঁপে উঠছেন। তাঁর কথায়, ‘‘নাতনিকে রিকশায় করে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎই একটা গাড়ি দ্রুত গতিতে এসে আমাদের রিকশায় ধাক্কা মারে। কী হয়েছে, তা বোঝার আগেই আমি রাস্তায় ছিটকে পড়ি।’’

ওই প্রৌঢ়ার কথায়, ‘‘আমি যখন চোখ খুলি দেখি রাস্তায় পড়ে রয়েছি। আমার পাশে পড়ে রয়েছে নাতনিও। আমার হাত রক্তে ভিজে গিয়েছে। আমার সারা শরীরে যন্ত্রণা হচ্ছিল। কিন্তু সে সব ভুলে শুধু নাতনির কথা ভাবছিলাম। কী ভাবে তাকে বাঁচাব, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যাই। সেখানেই একজন গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম সাহায্যে জন্য। কিন্তু সাহায্য না-করেই গাড়ি নিয়ে চলে যান তিনি। আরও অনেকেই বলি কিন্তু কেউই তাৎক্ষণিক ভাবে সাহায্য করেননি।’’

Advertisement

ঘাতক গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে নিজেরা কোনও পদক্ষেপ করছে না নিহত শিশুটির পরিবার। তবে তাদের দাবি, এ ভাবে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ হওয়া উচিত। শিশুটির মায়ের কথায়, ‘‘আমি শুধু এ টুকু বলতে পারি, এই বেপরোয়া গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর জন্য যে কোনও মানুষ মুহূর্তে প্রাণ হারাতে পারেন।’’

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত চালককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘাতক গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পুলিশের এক কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘অভিযুক্তের নাম সঞ্জীব। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। এ ছাড়াও, ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনা ক্রম সাজিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement