চাঁদে মানুষ পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছে নাসা। —ফাইল চিত্র।
১৯৭২ সালের পর আর পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে বেরোয়নি মানুষ। মহাকাশ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা অনেক হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু চাঁদ ছোঁয়া যায়নি আর। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ফের সেই সঙ্কল্প নিয়েছে। আবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর তোড়জোড় চলছে। শুক্রবার সকালে সেই অভিযানেরই আরও এক ধাপ পেরোলেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। সফল ভাবে সম্পন্ন হল আর্টেমিস-২ অভিযানের জ্বালানি পরীক্ষা।
নাসা চাঁদে মহাকাশচারীদের পাঠানোর অভিযানের নাম দিয়েছে আর্টেমিস। তিন ধাপে এই অভিযান সম্পন্ন হওয়ার কথা। দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ আর্টেমিস ২-তে মহাকাশচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে বেরোবেন এবং চাঁদের কাছাকাছি যাবেন। তাঁরা চাঁদের কাছে এক বার পাক খেয়ে (হাই-স্পিড লুপ) ফিরে আসবেন তাঁরা। এর পর তৃতীয় ধাপ আর্টেমিস-৩ মহাকাশচারীদের নামাবে চাঁদের মাটিতে।
নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস-২ উৎক্ষেপণের আগে জ্বালানি পরীক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। অভিযানের স্পেশ্যাল লঞ্চ সিস্টেম রকেট (এসএলএস) এবং ওরিয়ন মহাকাশযান যে ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার জন্য প্রস্তুত, সে বিষয়ে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেল এই পরীক্ষার সাফল্যের পর। পরীক্ষার সময় মহাকাশযানে কেবল চার মহাকাশচারী ছিলেন না। বাকি সমস্ত ধাপ সম্পন্ন হয়েছে পরিকল্পনা অনুযায়ী। আসল উৎক্ষেপণের সময়ে যা যা করা হবে, এখানেও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে হুবহু। ৭২ ঘণ্টা ধরে রকেটে প্রায় সাত লক্ষ গ্যালন তরল অক্সিজেন এবং তরল হাইড্রোজ়েন ভরা হয়েছে। মাঝে সামান্য রেডিয়ো সমস্যা এবং বিদ্যুতের সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু তাতে পরীক্ষা বাধা পায়নি। কাউন্টডাউনের শেষ ১০ মিনিটের মহড়া দু’বার করে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। উৎক্ষেপণের ঠিক ৩৩ সেকেন্ড আগে ঘড়ি থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ১০ মিনিট পিছিয়ে ফের শুরু হয় প্রক্রিয়া। বিজ্ঞানীদের দাবি, এতে আসল উৎক্ষেপণের সময়ে যদি আচমকা শেষ মুহূর্তে কোনও বাধা আসে, তার প্রস্তুতিও হয়ে রইল। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে এই জ্বালানি পরীক্ষা সফল হয়েছে।
২০২৬ সালের এপ্রিলে আর্টেমিস-২ উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানিয়েছে নাসা। এখনও তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। চাঁদের চারপাশে পাক খেতে ১০ দিনের এই অভিযানে থাকবেন কমান্ডার রেইড ওয়াইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং দুই বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিয়ানা কচ ও জেরেমি হানসেন। তাঁরা ১৯৭২ সালের পর প্রথম পৃথিবীর কক্ষপথ পেরোনো মানুষ হিসাবে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখাতে চলেছেন।