প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পেট্রলে ইথানল মেশানোর অনুপাত বাড়াতে বাড়াতে ২০ শতাংশে নিয়ে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কিন্তু তার ফল সামগ্রিক ভাবে (পরিবেশ এবং গাড়ির ইঞ্জিনের উপর প্রভাব ইত্যাদি) ভাল না মন্দ, তা এখনও জানা যায়নি বলে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে কেন্দ্র। শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রের বক্তব্য, পেট্রলে ইথানল মেশানো এখনও পরীক্ষার স্তরে রয়েছে। ফলাফল আগামী বছর জানা যাবে!
২০২৫–২৬ সালের জন্য ইথানল বরাদ্দ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে কর্নাটক হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ‘ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড’ (বিপিসিএল)। সেই মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে এ কথা জানানো হয়েছে। বিপিসিএলের আবেদনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ কর্নাটক হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়ে ইথানল বরাদ্দের ক্ষেত্রে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখতে বলেছে।
কর্নাটক হাই কোর্ট তেল সংস্থাগুলিকে (বিপিসিএল, এইচপিসিএল, আইওসিএল) ইথানল উৎপাদক সংস্থাগুলির (যেমন— ভিনপ ডিস্টিলারিজ) দায়ের করা আবেদন বিবেচনা করে তাদের বরাদ্দকৃত ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল। একটি বেসরকারি ডিস্টিলারি বা উৎপাদক সংস্থা তাদের ইথানল বরাদ্দ ৯.৯ কোটি লিটারে উন্নীত করার জন্য কর্নাটক হাইকোর্টে আবেদন করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, মাত্র ৩.৯২ কোটি লিটার বরাদ্দ নির্ধারিত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। কর্নাটক হাই কোর্ট তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু এর ফলে কেন্দ্রের পেট্রলে ইথানল মিশ্রণ নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে বিপিসিএলের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটারমানির অভিযোগ। শীর্ষ আদালতকে তিনি জানান, কর্নাটক হাইকোর্টের এই আদেশ ২০ শতাংশ ইথানল-পেট্রল মিশ্রণের জাতীয় নীতিকে অস্থিতিশীল করে দিতে পারে।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচি অনুযায়ী, ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হয় পেট্রলে। যা জনপ্রিয় ভাবে ই২০ জ্বালানি নামে পরিচিত। যদিও পশ্চিম এশিয়ার অশান্তি, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়ানোয় গত মাসে আমদানি খরচে রাশ টানতে পেট্রলে আরও বেশি ইথানল মেশানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পেট্রলের সঙ্গে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানো যাবে। যদিও তা এখনও চালু হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচি একটি ধারাবাহিক পরীক্ষা এবং নীতিটির প্রভাব আগামী বছরের মধ্যে আরও স্পষ্ট হবে। ইথানল সরবরাহ চুক্তিগুলি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সম্পন্ন হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ইথানল বরাদ্দ প্রক্রিয়া ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর চূড়ান্ত হয় এবং ৩৭৮ জন সরবরাহকারীকে মোট ১,০৫০ কোটি লিটার ইথানল সরবরাহের বরাত দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ১৮ জুন পর্যন্ত ৬৮০ কোটি লিটার ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।’’
একই সঙ্গে সরকার ইথানল মিশ্রণের হার আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের ইথানল ব্লেডিং কর্মসূচি ইতিমধ্যেই দেশে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে পুরনো যানবাহনের ক্ষতি এবং জ্বালানি দক্ষতা কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। তবে সরকার এই উদ্বেগ খারিজ করে বলেছে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের সঙ্গে যান্ত্রিক ক্ষতির কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ক্ষমতা ও মাইলেজও শুদ্ধ পেট্রলের চেয়ে কম বলে অভিযোগ। গাড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের একাংশের দাবি, এতে ইঞ্জিনের শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ২ থেকে ৫ শতাংশ কমতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে আয়ু কমতে পারে কিছু কিছু যন্ত্রাংশের। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে গাড়ির ধরনের উপরে। অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, আপাতত সরকারি নীতিতে ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মিশ্রণ বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী এবং হরদীপ সিংহ পুরী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইথানলের পরিমাণ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।