জাল তথ্য দিয়ে জেলে সপরিবার লেচু মিয়া

স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সহ গ্রেফতার হলেন ৭৩ বছরের বৃদ্ধ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, একে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক, তার উপর তথ্য জালিয়াতি করেছেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৬ ০৩:২০
Share:

স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সহ গ্রেফতার হলেন ৭৩ বছরের বৃদ্ধ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, একে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক, তার উপর তথ্য জালিয়াতি করেছেন। ভোটার তালিকায় থাকা মৃত ব্যক্তির নাম নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন ধৃত লেচু মিয়া। নামে-নামে মিলে যাওয়ায় ওই ভোটার তালিকা দেখিয়ে স্ত্রী-পুত্র-কন্যার পাসপোর্টও বের করে নিয়েছিলেন তিনি। এ বার রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)-তে নাম তোলার জন্য সেই সূত্র ব্যবহার করেই ফেঁসে যান পাঁচ সন্তানের জনক।

Advertisement

ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী রহিমা বেগম ওরফে ফুলবানু বিবি (৬০), তাঁদের দুই কন্যা হাসিনুর বেগম লস্কর (৪৪) ও শিল্পী বেগম লস্কর (৩৭) এবং দুই পুত্র মকলিস মিয়া লস্কর (৩৫) ও আজাদ আলি লস্কর (৩২)। আরেক কন্যা হোসনারা বেগম লস্করকেও শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশে জন্ম, বেড়ে ওঠা স্বীকার করেও নিজেকে ভারতীয় বলে দাবি করেন লেচু মিয়া। তাঁর কথায়, ১৯৭১ সালের পর যাঁরা সীমান্ত পেরিয়েছেন, তাদের বিদেশি বলা হয়। কিন্তু তিনি বাবা-মার উপর রাগ করে ১৯৭০-এ ঢাকার শ্রীনগর থেকে ভারতে চলে এসেছিলেন। শিলচরের ওয়াটার ওয়ার্কস রোডে এসে উঠলেও ঘুরেছেন গুয়াহাটি, মার্গেরিটা, তিনসুকিয়া-সহ অসমের বহু জায়গায়। কিন্তু নথিপত্রের কথা তখন ভাবেননি। কিন্তু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু মাথাচাড়া দেওয়ার সময় থেকেই তিনি নথিপত্র নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। একদিন এক মুহুরিকে এ কথা বলায় তিনিই ১৯৬৬-র ভোটার তালিকা থেকে খুঁজে বের করেন এক লেচু মিয়ার নাম। ৩০০ টাকার বিনিময়ে তার প্রত্যায়িত নকল তাঁর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সূত্রেই রহিমা বেগমের নাম বদলে হয় ফুলবানু বিবি। ফুলবানু, আজাদ এবং হাসিনুরের পাসপোর্টও তৈরি হয় প্রত্যায়িত নকলের সাহায্যে। বছর তিনেক আগে তাঁরা শ্রীহট্টের শাহজালাল দরগাও ঘুরে আসেন।

Advertisement

নথিপত্রের সমস্যা লেচু মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগমেরও। তিনি জানান, তাঁদের মূল বাড়ি মার্গেরিটায়। ছোটবেলায় মা-বাবা মারা যান। কাকার কাছে বড় হচ্ছিলেন। লেচু মিয়া তখন বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাসনকোসন বিক্রি করতেন। তাঁদের মধ্যে ভাব-ভালবাসা হয়ে যায়। একদিন কাকার বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে লেচু মিয়ার সঙ্গে শিলচরে চলে আসেন তিনি। সেই থেকে শহরের ওয়াটার ওয়ার্কস রোডেই রয়েছেন। ছেলে-মেয়ে পাঁচজনেরই জন্ম ওই এলাকায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement