সমর্থ সিংহের বিরুদ্ধে আঙুল ত্বিশা শর্মার পরিবারের। ছবি: সংগৃহীত।
জবলপুর আদালতে ত্বিশা শর্মার স্বামী সমর্থ সিংহ ‘ভিআইপি’র মতো ব্যবহার পেয়েছেন। পেশায় আইনজীবী সমর্থকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ করল ত্বিশার পরিবার। শুক্রবার জবলপুরে গ্রেফতার হন সমর্থ। তাঁকে প্রথমে নিম্ন আদালতে হাজির করানো হয়। সেখান থেকে তাঁকে নিজের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ত্বিশার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তাঁর বাবা নবনিধি শর্মার হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন আইনজীবী অনুরাগ শ্রীবাস্তব। তিনি জানান, গ্রেফতারির পরে আদালতের ৩২ নম্বর কক্ষে বসেছিলেন সমর্থ। জেলা এবং দায়রা বিচারকের এজলাস সেটি। এর পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হন সমর্থ। অনুরাগের দাবি, কোর্টের ৩২ নম্বর কক্ষে যখন সমর্থ বসেছিলেন, তখন সেই ঘরের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছিল। আইনজীবীর প্রশ্ন, ‘‘অভিযুক্ত কি আদৌ ওই ঘরে বসতে পারেন?’’
এর পরেই আইনজীবী বলেন, ‘‘এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, বিচারবিভাগ কী ভাবে তাঁর দিকে ঝুঁকেছে। তিনি এখানে আত্মসমর্পণ করতে এসেছিলেন। কিন্তু তত ক্ষণে সকল বিচারক বেরিয়ে গিয়েছেন। জেলা বিচারকের কক্ষে তিনি বসেছিলেন, যার দরজা বন্ধ করা ছিল। আমি যখন দরজা খুলতে বলি, তখন তিনি সেখান থেকে পালিয়ে বার অ্যাসোসিয়েশনের কক্ষে গিয়ে বসেন।’’
সমর্থের মা গিরিবালা সিংহ অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। ত্বিশার পরিবার প্রথম থেকেই অভিযোগ করছে যে, সমর্থের পরিবার এই মামলায় প্রভাব খাটাচ্ছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে মামলায় ঢিলে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ত্বিশার বাবার আইনজীবী জানান, সমর্থের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছিল। তাঁর খোঁজ দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরেও তাঁকে গ্রেফতারের পরে পুলিশের আচরণে সে সব বোঝা যায়নি। আইনজীবীর অভিযোগ, স্বাধীন ভাবেই ঘুরেছেন সমর্থ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘নাটকীয় ভাবে’ আদালতে হাজির হন সমর্থ। তাঁর মুখ ঢাকা ছিল মাস্কে। চোখে ছিল রোদচশমা, মাথায় টুপি। সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করতে চাইলে তিনি কোনও কথা বলেননি। সমর্থের আইনজীবী সৌরভ সুন্দর সাংবাদিকদের জানান, তাঁর মক্কেল মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করে আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর আত্মসমর্পণের বিধি শেষ হওয়ার আগেই সমর্থকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাঁকে ভোপাল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শনিবার রাত ২টোয় তাঁকে ভোপালে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার সকালে ভোপাল আদালতে হাজির করানো হয় সমর্থকে।
গলায় দড়ি দেওয়ার কারণে ত্বিশার মৃত্যু বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ত্বিশার পরিবার দাবি করেছে, তাঁর শরীরে বেশ কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ত্বিশাকে খুন করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। পণের জন্য ত্বিশার উপর অত্যাচার করা হত বলেও অভিযোগ পরিবারের। শুক্রবার মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট ত্বিশার দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের অনুমতি দিয়েছে। দিল্লি এমসে তাঁর ময়নাতদন্ত হবে। প্রসঙ্গত, ত্বিশার মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর স্বামী সমর্থ পলাতক ছিলেন। শুক্রবার তিনি জবলপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান। ইতিমধ্যে সমর্থের আইনজীবীর লাইসেন্স নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করেছে বার কাউন্সিল। নামের আগে আপাতত ‘অ্যাডভোকেট’ লিখতে পারবেন না তিনি।