নির্মলা সীতারামন। — ফাইল চিত্র।
কোভিডের ধাঁচে এ যাত্রায় ‘এনার্জি লকডাউন’ হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই বলে আজ ফের জানিয়ে দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হলেও এ দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্র। কোনও ক্ষেত্রেই জ্বালানি ব্যবহারের প্রশ্নে কোনও রাশ টানা বা ‘রেশনিং’ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীনির্মলা সীতারামন।
তাঁর কথায়, ‘‘কিছু নেতা-নেত্রী লকডাউনের সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছেন। ওই দাবি ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য চিন্তাজনক।’’
নির্মলা ওই কথা বললেও, গত দু’দিন ধরে রান্নার গ্যাসের বুকিং করতে হিমশিম খেয়েছেন সাধারণ মানুষ। পেট্রল-ডিজ়েল ভরতে পাম্পের সামনে ভিড় জমিয়েছে আমজনতা। বিরোধীদের মতে, নরেন্দ্র মোদী লোকসভায় পশ্চিম এশিয়া সংঘাত নিয়ে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে করোনা অতিমারির স্মৃতিকে উস্কে দেওয়ার ফলে আমজনতার মধ্যে এ ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এরই মধ্যে করোনা কালের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে লকডাউনের আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে। যদিও আজ রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নির্মলা স্পষ্ট করে দেন, ‘‘আমি দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়ে বলতে চাই যে ভারতে কোভিডের সময়ে যে লকডাউন হয়েছিল সে ধরনের কিছু হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।’’ বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে ভাবে লকডাউন নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন তা চিন্তাজনক বলেও মন্তব্য করেন নির্মলা বলেন, ‘‘মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলতে এ ভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’’ লকডাউনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী বলেন, ‘‘সরকার এ ধরনের কোনও প্রস্তাব নিয়ে বিবেচনা করছে না। এই সময়ে গুজব ছড়ানো ও অহেতুক ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করা দায়িত্বজ্ঞানশূন্য ও ক্ষতিকর।’’
নির্মলার দাবি, ভারতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রান্নার গ্যাস ও পেট্রল-ডিজ়েল মজুত রয়েছে। মানুষের অহেতুক ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি জ্বালানি সঙ্কটের শিকার হয়েছে বলে দাবি করে নির্মলা বলেন, ‘‘পাকিস্তানে জ্বালানির দাম দু’শো শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে দেশের টাকায় পেট্রলের দাম হয়েছে প্রতি লিটার ৩২১ টাকা। জ্বালানি বাঁচাতে সিন্ধু এলাকায় স্মার্ট লকডাউন ঘোষিত হয়েছে। সেখানে স্কুলগুলি দু’সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি দফতরগুলি সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকছে। বেসরকারি দফতরগুলির ৫০ শতাংশ কর্মীকে ঘর থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।’’
নির্মলার দাবি, পাকিস্তানের মতোই জ্বালানি সমস্যায় ভুগছে বাংলাদেশও। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্লাস অনলাইনে হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় পাঁচ ঘণ্টা করে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বিদ্যুৎ থাকছে। তেলের অভাবে পেট্রল পাম্পগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে।’’ নির্মলার দাবি, ‘‘সেখানে এ সব কিছুই করতে হচ্ছে না এ দেশে। উল্টে উৎপাদন শুল্ক কমানো হয়েছে। ভারতে যথেষ্ট পেট্রপণ্য মজুত রয়েছে। আমরা এমন ভাবে এগোচ্ছি যাতে দেশবাসীর সমস্যা না হয়।’’ কেন্দ্রীয় সারমন্ত্রী জে পি নড্ডা জানিয়েছেন, কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। কারণ, যথেষ্ট সারও মজুত রয়েছে।
শাসক শিবিরের মতে, আমজনতার মধ্যে লকডাউনের সম্ভাবনাকে মূলত গত কাল উস্কে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, ‘‘আবার সতর্ক করেছে। ওঁদের সতর্ক করার মানে তো আমি বুঝি। লকডাউন করবে কি না, ভাবছে কি না, জানি না! করলে করবে। লকডাউন করে মানুষকে ঘরবন্দি করে রাখবেন?’’ লকডাউন নিয়ে মমতার বক্তব্য প্রসঙ্গে পেট্রলিয়ম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে