কথা ছিল না, তবু কথা হয়ে গেল ভারত, পাক বিদেশসচিবের!

কথা ছিল না। কিন্তু হয়ে গেল। পূর্ব নির্ধারিত না থাকলেও। দিল্লিতে ‘হার্ট অফ এশিয়া কনফারেন্স’ চলার মধ্যেই এক ফাঁকে এক পাশে গিয়ে নিজেদের মধ্যে একটু কথাবার্তা সেরে নিলেন পাকিস্তানের বিদেশসচিব আইজাজ আহমেদ চৌধুরী ও ভারতের বিদেশসচিব ড. এস জয়শঙ্কর।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৬ ১৩:৩৪
Share:

আবার পাশাপাশি। ভারত ও পাকিস্তানের বিদেশসচিব। দিল্লিতে, মঙ্গলবার।

কথা ছিল না। কিন্তু হয়ে গেল। পূর্ব নির্ধারিত না থাকলেও।

Advertisement

দিল্লিতে ‘হার্ট অফ এশিয়া কনফারেন্স’ চলার মধ্যেই এক ফাঁকে এক পাশে গিয়ে নিজেদের মধ্যে একটু কথাবার্তা সেরে নিলেন পাকিস্তানের বিদেশসচিব আইজাজ আহমেদ চৌধুরী ও ভারতের বিদেশসচিব ড. এস জয়শঙ্কর। এ দিনের এই বৈঠকই দু’দেশের মধ্যে হঠাৎ করে থমকে যাওয়া আলোচনার প্রক্রিয়া ফের শুরুর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে কৃটনীতিকদের ধারণা।

আরও পড়ুন- ফের রক্তাক্ত ঢাকা, খুন এলজিবিটি ম্যাগাজিনের সম্পাদক জুলহাস মান্নান

Advertisement

একান্তে, এক ফাঁকে কী কী কথা হল দু’দেশের দুই বিদেশসচিবের?

পাকিস্তানের তরফে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর সহ সবক’টি অমীমাংসিত বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে সবিস্তারে। আর সেই আলোচনায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী নাকি ঠারেঠোরে এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইসলামাবাদ চায় সবকর্টি বিতর্কিত বিষয় নিয়েই দু’দেশের মধ্যে থমকে যাওয়া আলোচনার প্রক্রিয়াটা আবার শুরু হোক। তবে জম্মু-কাশ্মীরকে প্রধান ইস্যু হিসেবে রেখে। আর সেটা হোক রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও কাশ্মীরের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে।

এ তো গেল পাকিস্তানের কথা।

ভারত কী বলল ওই বৈঠকের পর?

ভারতের তরফে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, দুই বিদেশসচিবের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে খুবই সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশে। খোলাখুলি। কথা বলতে বলতে দু’জনকে অল্প-স্বল্প হাসতেও দেখা গিয়েছে। দু’জনেই তাঁদের অভিমত প্রকাশ করেছেন স্পষ্ট ভাবে। কিন্তু গঠনমূলক আচরণের প্রমাণ মিলেছে দু’তরফের কথাবার্তাতেই। ভারতের তরফে পাঁচটি বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এক, পঠানকোট ঘটনার তদন্তে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। আর সেই তদন্ত যে সত্যি সত্যিই হচ্ছে, আর তা ঠিক পথে এগোচ্ছে, ভারতকে সে ব্যাপারে সুনিশ্চিত করতে হবে। দুই, পাকিস্তানে মুম্বই হামলার শুনানি দ্রুত সেরে ফেলতে হবে। ওই মামলাকে অহেতুক ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। তিন, সন্ত্রাসবাদ যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সহজতর করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সে কথা ইসলামাবাদের অস্বীকার করা চলবে না। চার, পাকিস্তানের মাটিতে ঘাঁটি গেড়ে থাকা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলো যাতে ভারতে অশান্তি সৃষ্টি না করতে পারে, সেটা সুনিশ্চিত করতে ইসলামাবাদকে উদ্যোগ নিতে হবে। পাঁচ, পাকিস্তানে অপহৃত প্রাক্তন ভারতীয় নৌসেনা কর্তা কূলভূষণ যাদবের সঙ্গে যাতে ভারতীয় দূতাবাস যোগাযোগ রেখে চলতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

এ ছাড়াও আটক, বেহদিশ ধীবর ও পাকিস্তানের জেলে বন্দি ভারতীয়দের ব্যাপারে ইসলামাবাদের তরফে আরও মানবিক, আরও সদর্থক ভূমিকা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে ভারতের তরফে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement