প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ। —ফাইল চিত্র।
এসআইআর-এর নোটিস পেলেন ভারতীয় প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধানও। অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশকে শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাড়ি থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে এক শুনানিকেন্দ্রে ডাকা হয়েছে তাঁকে। শুধু নৌসেনার প্রাক্তন প্রধানকেই নয়, ডাকা হয়েছে তাঁর স্ত্রীকেও।
প্রায় ২০ বছর আগে বাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন অ্যাডমিরাল অরুণ। এখন তাঁর বয়স ৮২ বছর। স্ত্রীর বয়স ৭৮। এই বৃদ্ধ বয়সেও তাঁদের নোটিস পাঠিয়ে বলা হয়েছে, বাড়ি থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে একটি শুনানিকেন্দ্রে হাজির হতে হবে। বৃদ্ধ দম্পতিকে একই দিনে ডাকা হয়েছে এমনও নয়। দু’জনকে দুই ভিন্ন দিনে শুনানিকেন্দ্রে ডাকা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নিজেই সে কথা জানিয়েছেন নৌসেনার প্রাক্তন প্রধান।
অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা কর্তা বর্তমানে সস্ত্রীক গোয়ায় থাকেন। সেখানেও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ চালাচ্ছে কমিশন। সে রাজ্যের খসড়া তালিকাও ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। সেই খসড়ায় নামও ওঠে অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল অরুণ এবং তাঁর স্ত্রীর। সম্প্রতি তাঁদের শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। সমাজমাধ্যমে নৌসেনার প্রাক্তন প্রধান জানিয়েছেন, তাঁরা কমিশনের নোটিস মেনে শুনানিকেন্দ্রেও যাবেন। তবে একই সঙ্গে ঈষৎ অভিমানও উঠে এসেছে ওই পোস্টে।
অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল লেখেন, “২০ বছর আগে আমি অবসর নিয়েছি। তার পর থেকে কখনও কোনও বিশেষ সুবিধা চাইনি। কখনও দরকারও হয়নি। আমি এবং আমার স্ত্রী এসআইআর ফর্ম পূরণ করেছিলাম। গোয়ার খসড়া তালিকায় আমাদের নাম দেখে খুশিও হয়েছিলাম। তবে আমরা কমিশনের নোটিস অনুসারেই চলব।” একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বেশ কিছু ‘পরামর্শ’ও দিয়েছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “যদি এসআইআর-এর ফর্মগুলি প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে না পারে, তবে ওই ফর্ম সংশোধন করা উচিত। বিএলও আমাদের বাড়িতে তিন বার এসেছিলেন। তিনি চাইলে আরও তথ্য চাইতে পারতেন।” তাঁদের যে এই বয়সেও ১৮ কিলোমিটার দূরে ডেকে পাঠানো হয়েছে, সে কথাও উল্লেখ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল অরুণ।