প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
আবগারি মামলায় দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার সঙ্গে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালের বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন একটি টিভি চ্যানেলে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রাক্তন বিচারপতি বলেন, “একজন প্রাক্তন বিচারপতি হিসেবে আমি অত্যন্ত দুঃখিত ও মর্মাহত। গত ১০-১২ বছরে উচ্চ আদালতে যে ভাবে বিচারপতি নিয়োগ হয়েছে, সেখানে ক্রমশ রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বিচারপতিদের নিয়োগ বেড়েছে। এতে বিচারব্যবস্থার বড় ক্ষতি হচ্ছে।”
এখানেই না থেমে মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বলেন, উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের মধ্যে অতিরিক্ত অহংবোধ থাকা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “অতিরিক্ত অহং একজন বিচারককে ভুল পথে চালিত করতে পারে। এটা বিচারব্যবস্থার পক্ষে ভাল নয়। আমাদের নিজেদের ঘর পরিষ্কার করতে হবে এবং বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে হবে।”
বস্তুত গত বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন মামলার রায়, বিচারপতিদের মন্তব্য এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা মহলে আলোচনা হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
আবগারি দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করে দেওয়ার পরে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে সিবিআই দিল্লি হাই কোর্টে যায়। সেখানে বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার এজলাসে মামলাটি ওঠার পরেই কেজরীওয়াল অভিযোগ করেন, ওই বিচারপতি আরএসএস-এর অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। নিরপেক্ষতার স্বার্থে কেজরীওয়ালদের মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য তিনি বিচারপতি শর্মার কাছে আর্জি জানান। কিন্তু বিচারপতি শর্মা রাজি না হলে আদালতে নিজেই সওয়াল করে কেজরীওয়াল তাঁর দাবির সপক্ষে ‘প্রমাণ’ পেশ করেন। তার পরেও বিচারপতি মামলা থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকার করলে কেজরীওয়াল-সহ আম আদমি পার্টির চার নেতা তাঁর এজলাসে হাজির না হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। পরে বিচারপতি শর্মা জানান, কেজরীওয়াল ও তাঁর দলের তিন নেতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস জারি করা হবে। মামলাটি অন্য বিচারপতির এজলাসে পাঠানো হয়। এর পরে কেজরী বলেন, “সত্যের জয় হয়েছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে