পীযূষ গয়াল
ভোটের আগে নিয়ম মাফিক খরচ চালানোর জন্য অন্তর্বর্তী বাজেট? না কি প্রথা ভেঙে ১ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ বাজেটই পেশ করতে চলেছে মোদী সরকার?
এই নিয়ে তুমুল জল্পনার মধ্যে আজ আগেভাগেই মোদী সরকারকে সতর্ক করে দিল কংগ্রেস। তাদের হুঁশিয়ারি, মোদী সরকারই ক্ষমতায় ফিরছে এমন ধারণা তৈরি করতে অর্থমন্ত্রী যদি ১ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেন, তা হলে তা সংসদীয় মর্যাদার বিরোধী হবে। সরকারকে প্রবল বিরোধিতার মুখেও পড়তে হবে।
অরুণ জেটলির অসুস্থতার জন্য বুধবার রাতেই পীযূষ গয়ালকে অর্থ মন্ত্রকের সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কিছু না ঘটলে ১ ফেব্রুয়ারি গয়ালই বাজেট পেশ করবেন। বৃহস্পতিবার নর্থ ব্লকে এসে তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার আন্তর্জাতিক শুল্ক দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন। কিন্তু সরকারি ভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে, বুধবার রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনের বিবৃতি জারি হওয়ার পরেই অর্থ মন্ত্রকের সচিবদের সঙ্গে অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করে দেন পীযূষ। সূত্রের খবর, বুধবার সচিবদের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের সঙ্গে বৈঠকও করেন পীযূষ।
দায়িত্ব নিয়েই গয়ালের এই সক্রিয়তা দেখে প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি মোদী সরকার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছে? প্রথামাফিক লোকসভা ভোটের বছরে, ভোটের আগে ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট বা অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করে সরকার। তাতে নতুন সরকার গঠন হয়ে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা পর্যন্ত মাস তিনেকের খরচ চালাতে সংসদের অনুমতি নেওয়া হয়। সেই বাজেট নিয়ে বিশদে আলোচনাও হয় না। ধ্বনিভোটেই পাশ হয়ে যায়। কর সংক্রান্ত বিষয়ে, বিশেষত আয়কর সংক্রান্ত কোনও বদল হয় না। ফলে আয়কর আইনেও সংশোধন হয় না।
কিন্তু এ বার লোকসভা ভোটের আগে মধ্যবিত্ত এবং গরিব চাষিদের মন জিততে একগুচ্ছ উপহারের কথা ভাবছে মোদী সরকার। আয়কর ছাড়ের উর্ধ্বসীমা আড়াই লক্ষ টাকা থেকে বাড়ানো হতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে। সে ক্ষেত্রে আয়কর আইনেও সংশোধন করতে হবে। তার উদাহরণ অতীতে যে নেই, এমন নয়। কিন্তু সব সময় এই প্রথা ভাঙা হয় না। একই ভাবে চাষিদের জন্য প্রকল্প ঘোষণা করতে গিয়ে তিন মাসের বদলে সারা বছরের খরচের হিসেবই জানিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা চলছে। সে জন্য রাজকোষ ঘাটতির সীমাও প্রয়োজনে লঙ্ঘন করা হতে পারে। বছরের শুরুতে জেটলি নিজেই সেই ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, কিছু কিছু সময় এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয় যে কিছু জায়গায় সমস্যা মেরামতে খরচ বাড়াতে হয়। সেই সমস্যা যে চাষিদের দুর্দশা, ফসলের দাম না পাওয়া, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন জেটলি।
আজ কংগ্রেস মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারি বলেন, ‘‘মোদী সরকারকে পঞ্চম বছরে ছয় নম্বর বাজেট পেশ করার অধিকার ভোটাররা দেননি। মোদী সরকার সেই বৈধতা হারিয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হচ্ছে, সবাই জানে। তাই আমাদের দাবি, সাংবিধানিক প্রথা মেনে সরকার ভোট-অন-অ্যাকাউন্টই পেশ করুক। সরকারের মেয়াদ ২৬ মে শেষ হচ্ছে। তা হলে সরকার কী ভাবে ৩৬৫ দিনের বাজেট পেশ করতে পারে?’’ প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও এ নিয়ে বিজেপি নেতারা ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, আংশিক বাজেট বলে কিছু হয় না। সব বাজেটই পূর্ণাঙ্গ বাজেট।